• ‘কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা’, ২৩টি দেশ পেরিয়ে সাইকেলে নদিয়ায় মরক্কোর ওসমান
    এই সময় | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ‘কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা...’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গান বোধহয় মরোক্কোর ওসমান শোনেননি। শোনার কথাও নয় অবশ্য। তবে এর নির্যাস তিনি ঠিকই বুঝেছেন। না হলে একটা সাইকেল নিয়ে অজানার পথে বেরিয়ে পড়েন! ২৩টি দেশ ঘুরে এখন এসে পৌঁছেছেন নদিয়ায়। শেষ পর্যন্ত কোথায় যাবেন? ওসমান বললেন, ‘জানি না।’

    ওসমানের মাথায় একটা টোকা। অসমের কৃষকরা ক্ষেতে কাজ করার সময়ে যে টুপি পরেন, অনেকটা সেই রকম দেখতে। চোখে সানগ্লাস। পরনে জার্সি, বিব শর্টস। সাইকেলে অন্তত পাঁচ থেকে সাতটা ব্যাগ ঝুলছে। যেন গোটা সংসার। গত চার বছর ধরে এ ভাবেই সাইকেল চালিয়ে ২৩টি দেশ ঘুরে ফেলেছেন বলে দাবি তাঁর। এখন ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে এগিয়ে চলেছেন কলকাতার দিকে।

    মরক্কো থেকে শুরু হয়েছিল যাত্রা। এর পর একে একে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স — এশিয়ার একের পর এক দেশ পেরিয়ে ভারতের মাটিতে পা রেখেছেন তিনি। তার আগে বাংলাদেশেও ঘুরেছেন। বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ঢুকেছেন বনগাঁয়। গাইঘাটা হয়ে পৌঁছেছেন নদিয়ার হরিণঘাটায়।

    ভারতে এসে মুগ্ধ ওসমান। ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে বললেন, ‘অনেক বড়’। তাঁর খুব ‘ভালোও লাগছে।’ তবে নিছক পর্যটকের চোখে কোনও দেশকে দেখতে চান না তিনি। সাইকেলের প্যাডেল ঘুরিয়ে পথে পথে মানুষের সঙ্গে মিশছেন, জানছেন তাঁদের জীবনযাপন, জীবিকা, সংস্কৃতি, ধর্মের নানা দিক। ভারতের বৈচিত্র্যের সঙ্গে তাঁর একটা টান তৈরি হয়েছে যেন।

    দীর্ঘ যাত্রায় নানা অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। প্রথম দিকে স্থানীয়রা খুব একটা পাত্তা দিতেন না। কিন্তু তাঁর দীর্ঘ সফরের গল্প শুনে বদলে যাচ্ছে ছবিটা। কৌতূহল ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে আগ্রহে। অচেনা বিদেশি হয়ে উঠছেন আপনজনের মতো। নদিয়ার মাটিতে এসে স্থানীয়দের ভালোবাসায় আপ্লুত ওসমানও। ভারত থেকে তিনি যাবেন শ্রীলঙ্কা। কিন্তু তারপর? কোথায় গিয়ে থামবে এই সফর? ওসমান বললেন, ‘জানি না, জাস্ট কিপ গোয়িং।’ এই তো জীবন কালীদা।

  • Link to this news (এই সময়)