নেপালে বিপর্যয়ের পরে দু’সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। এখনও নিখোঁজ বাঁকুড়ার ইন্দপুরের মুদুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা অশোক পাল (৩৮)। যত দিন গড়াচ্ছে উদ্বেগ বাড়ছে পরিবারের। সামনে পুজো। তার আগে অশোক বাড়ি ফিরে আসুক, এখন এটাই একমাত্র প্রার্থনা পাল পরিবারের।
তীব্বত সীমান্ত ঘেঁষা নেপালের রাসুয়া জেলার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করতেন অশোক। গত ২৬ অগস্ট, বুধবার এখানেই ভয়াবহ হড়পা বান নেমে আসে। তছনছ হয়ে যায় গোটা জেলা। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটিও। দুর্ঘটনার পর থেকে আর অশোকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
দুর্ঘটনার আগের দিন মঙ্গলবার মা লক্ষ্মীরানি পালের সঙ্গে কথা হয়েছিল। তখনই পুজোয় বাড়ি ফেরার কথা জানিয়েছিলেন অশোক। লক্ষ্মীর কান্না এখনও থামছে না। কোনও রকমে বললেন, ‘ছেলে কোথায় জানি না। কী ভাবে দিন কাটছে ঈশ্বরই জানেন।’
নিখোঁজদের সন্ধানে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় দেহ বা দেহাবশেষের নমুনার সঙ্গে তা মিলিয়ে পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অশোকের পরিবারের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। দিশাহারা বাবা মুক্তারাম পাল বললেন, ‘বাঁকুড়া মেডিক্যালে রক্তের নমুনা দিয়েছি। কী হবে বুঝতে পারছি না।’
ইন্দপুর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছে অশোকের পরিবার। পুলিশ সূত্রে খবর, অশোক যেখানে কাজ করতেন, সেই সংস্থার ম্যানেজারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নেপালে সেনাবাহিনী এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরাও এখনও উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে চলছে জোরদার তল্লাশিও।
অশোক পাল কে?
অশোক পাল (৩৮) বাঁকুড়ার ইন্দপুরের মুদুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নেপালের রাসুয়া জেলার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন।
কবে থেকে অশোক নিখোঁজ?
২৬ অগস্ট নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বান নামার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অশোকের সঙ্গে পরিবারের শেষ কবে কথা হয়েছিল?
দুর্ঘটনার আগের দিন, ২৫ অগস্ট মঙ্গলবার, মা লক্ষ্মীরানি পালের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল। তখন পুজোয় বাড়ি ফেরার কথা জানিয়েছিলেন অশোক।
ডিএনএ নমুনা কেন নেওয়া হয়েছে?
নিখোঁজদের শনাক্ত করার জন্য অশোকের মা-বাবার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় দেহ বা দেহাবশেষের নমুনার সঙ্গে তা মিলিয়ে পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
অশোকের খোঁজে এখন কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে?
পরিবার ইন্দপুর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছে। পুলিশ অশোকের কর্মস্থলের সংস্থার ম্যানেজারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। পাশাপাশি নেপালে সেনাবাহিনী ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা উদ্ধার ও তল্লাশি চালাচ্ছেন।