সত্য নিকেতনে পাঁচ তলা বিল্ডিং ভেঙে এখনও পর্যন্ত সাত জন পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাজস্থানের ভিয়াডা থেকে বাড়ির মালিক হরিরাম গুপ্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে তিনি ভারতীয় বায়ুসেনার সার্জেন্ট পদে কর্মরত ছিলেন। অবসরের পরে হার্ডওয়্যার ও রঙের ব্যবসা শুরু করেন। এদিন তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে পাটিয়ালা হাউস কোর্টসের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফার্স্ট ক্লাস আদালত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়িটি হরিরামের স্ত্রী উর্মিলার নামে ছিল। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই হওয়ায় প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো বাড়িটিকে রং করে মেস হিসেবে ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা শুরু করেন তাঁরা। তবে বাড়ি স্ত্রীর নামে হলেও সেটি দেখভাল করতেন হরিরাম আর তাঁর ছেলে মহেশ।
পাঁচ তলা বাড়ির দু’টি তলার বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল হরিরামের নামে। বাড়ি ভেঙে পড়ার পরে উর্মিলা এবং মহেশকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিন উর্মিলাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজত এবং মহেশকে ২ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হরিরামের আসল বাড়ি গুরুগ্রামে। তিনি ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্সের সার্জেন্ট ছিলেন। অবসরের পরে হার্ডওয়্যার ও রঙের ব্যবসা শুরু করেন। পিজি-র ব্যবসা চালাত গুপ্তা পরিবার। গুরুগ্রামে তাঁদের আরও চারটি সম্পত্তি রয়েছে। হরিরামের আর এক ছেলে পেশায় পাইলট। তবে তাঁর নাম জানা যায়নি।
গত এক মাস ধরে দিল্লির বাড়ির একতলায় মেরামতির কাজ চলছিল। রবিবার দুপুরে আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে গোটা বাড়িটাই। মৃত্যু হয় সাত জনের। আহত বেশ কয়েক জন। দিল্লির এইমসে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। জানা গিয়েছে, ভাড়া নেওয়ার আগে মুচলেকায় সই করতে হতো ছাত্রদের। অভিযোগ, সেখানে স্পষ্ট লেখা থাকত, ‘আবাসিকের কোনও ক্ষয়ক্ষতির জন্য পেয়িং গেস্ট কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।’
এই ধরনের মুচলেকার নেপথ্যে কী কারণ ছিল, মহেশকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। গুপ্ত পরিবারের মালিকানাধীন অন্য কোনও বাড়িতেও একই ভাবে পিজি বা হস্টেল চালানো হয় কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসটি রয়েছে সত্য নিকেতন। আশপাশে একাধিক কলেজ থাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই পড়ুয়ারা এখানে ভিড় জমাতে শুরু করেন। পাল্লা দিয়ে বাড়ে পিজি ও হস্টেলের চাহিদা। একের পর এক বাড়ি বদলে যায় ছাত্রাবাসে। পুরসভার নথিতে থাকা বহু বসতবাড়িতেও পিজির ব্যবসা শুরু হয় বলে অভিযোগ। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে আসন সংখ্যা কম হওয়ায় এখানেই মাথা গোঁজার ঠাঁই খোঁজেন পড়ুয়ারা। তাঁদের থেকে মোটা টাকা ভাড়াও নেওয়া হতো বলে অভিযোগ।
দুর্ঘটনার পরেই ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। দিল্লি পুরনিগমের পাঁচ আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে পেয়িং গেস্ট সংক্রান্ত নিয়মকানুন খতিয়ে দেখতে নগরোন্নয়ন মন্ত্রী আশিস সুদের নেতৃত্বে একটি কমিটিও গঠন করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সত্য নিকেতনে কী ঘটেছে?
পাঁচ তলা একটি বাড়ি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জন পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে।
বাড়ির মালিক কে?
বাড়িটি হরিরাম গুপ্তার স্ত্রী উর্মিলার নামে। তবে বাড়িটি দেখভাল করতেন হরিরাম ও তাঁর ছেলে মহেশ।
হরিরাম গুপ্তা আগে কী করতেন?
তিনি ভারতীয় বায়ুসেনায় সার্জেন্ট পদে কর্মরত ছিলেন। অবসরের পর হার্ডওয়্যার ও রঙের ব্যবসা শুরু করেন।
বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
হরিরাম, উর্মিলা ও মহেশকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালত হরিরাম ও উর্মিলাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজত এবং মহেশকে ২ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে।
দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের কী পদক্ষেপ?
ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। দিল্লি পুরনিগমের পাঁচ আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পিজি সংক্রান্ত নিয়ম খতিয়ে দেখতে কমিটিও গঠন করা হয়েছে।