• আগ্রাসী তোর্সা, অস্তিত্ব হারাচ্ছে রণবাহাদুর বস্তি
    এই সময় | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়, আলিপুরদুয়ার: কয়েকদিন আগেই তোর্সার জলে ভেসে গিয়েছে মাত্র তিন মাস আগে তৈরি হওয়া ৫০ মিটারের অস্থায়ী বাঁধ। এ বার অস্তিত্ব হারানোর মুখে আলিপুরদুয়ারের কালচিনি ব্লকের দলসিংপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের রণবাহাদুর বস্তি। এই মুহূর্তে তোর্সার গতিপথ উত্তর দিকে সরতে শুরু করায় রণবাহাদুর বস্তির প্রায় ৫০ বিঘা চাষের জমি জলের তলায় ডুবে গিয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, গত এক সপ্তাহে প্রায় দু'কিলোমিটার বনাঞ্চলও তোর্সায় বিলীন হয়েছে।

    কালচিনিতে সে ভাবে বৃষ্টি না হলেও ভুটানে গত কয়েকদিন প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর ফলেই আলিপুরদুয়ারের ওই অংশে পরিস্থিতি এখন সঙ্গিন। তৃণমূল আমলে জয়গাঁ ডেভেলপমেন্ট অথরিটির তরফে বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা ব্রহ্মপুত্র নদী কমিশনের কাছে রণবাহাদুর বস্তিকে তোর্সার আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতে নদী-বাঁধ নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে লিখিত আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরে এ নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য হয়নি। বর্ষার শেষপর্বে তোর্সা যে ভাবে জমি গিলছে, তাতে প্রমাদ গুনতে শুরু করেছেন রণবাহাদুর বস্তির বাসিন্দারা।

    স্থানীয় দীনেশ রায় বলেন, 'চোখের সামনে প্রতিদিন আমাদের বসতির দিকে এগিয়ে আসছে তোর্সা নদী। এ বছর শুখা মরশুমে যদি স্থায়ী বাঁধ তৈরি করা না-হয়, তা হলে সামনের বছর আমাদের ভিটেমাটি সব গিলে নেবে তোর্সা।' আর এক বাসিন্দা রাকেশ সুব্বা বলেন, 'এক সময়ে দুই কিলোমিটার বনভূমি আমাদের তোর্সার আগ্রাসন থেকে রক্ষা করত। কিন্তু এখন তো কয়েকদিনের মধ্যে উঁচু উঁচু গাছ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টিতে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না-করলে কয়েক হাজার মানুষকে ভিটেছাড়া হতে হবে।'

    বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কালচিনির বিধায়ক এবং স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য উন্নয়ন বিষয়ক দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা। তাঁর বক্তব্য, 'প্রকৃতঅর্থেই রণবাহাদুর বস্তিতে ভাঙন শুরু হয়েছে। তোর্সা নদী এগিয়ে আসছে বসতির দিকে। তিন মাস আগে বস্তির দক্ষিণ দিকে যে অস্থায়ী বাঁধ তৈরি করা হয়েছিল, সেটা ভেসে যাওয়ায় সমস্যা আরও বেড়েছে। বর্ষা শেষ হতেই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'

  • Link to this news (এই সময়)