এই সময়, রায়গঞ্জ: জমিতে কাজ করার সময়ে বজ্রপাতে আহত হন দুই যুবক। তাঁদের অ্যাম্বুল্যান্স করে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে আসার সময়ে রেলগেট পড়ে যায়। এর ফলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় অ্যাম্বুল্যান্সটিকে। বাধ্য হয়ে আহতদের অ্যাম্বুল্যান্স থেকে নামিয়ে ঘাড়ে করে রেললাইন পার করিয়ে টোটোতে ওঠানো হয়। সেখান থেকে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে আহতদের মধ্যে একজনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। সোমবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জের শীত গ্রাম পঞ্চায়েতের পানিশালা এলাকায়। মৃত যুবকের নাম রুহুল আমিন (২৮) এবং গুরুতর আহত যুবকের নাম আবদুল মজিদ।
এ দিন বিকেলে জমিতে মাখনা চাষ করতে গিয়ে বাজ পড়ে গুরুতর আহত হন রুহুল ও আব্দুল। স্থানীয়রা তাঁদের অ্যাম্বুল্যান্সে চাপিয়ে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু রায়গঞ্জের পুরোনো জাতীয় সড়কের উপর রেলগেট বন্ধ থাকায় আহতদের নিয়ে মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যেতে দেরি হয়। পথেই একজনের মৃত্যু হয়েছে।
মৃতের আত্মীয় জামাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, 'রোগীদের আশঙ্কাজনক অবস্থার কথা জানানো হলেও রেলগেটে থাকা কর্মীরা গেট খোলেননি। বেগতিক দেখে আমরা ঘাড়ে করে আহত দু'জনকে রেলগেট পার করিয়ে টোটোতে চাপিয়ে মেডিক্যালে নিয়ে আসি। কিন্তু রুহুলকে বাঁচানো গেল না। অতক্ষণ সময় আটকে না থাকলে হয়তো ওকে মরতে হতো না।' এ দিন দীর্ঘক্ষণ শহরের দুটি রেলগেট বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন নিত্যযাত্রীরা। এদিন বিকেলে পুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রেলগেট প্রায় ৩০ মিনিট বন্ধ থাকায় শহরে তীব্র যানজট তৈরি হয়।
যানজটে আটকে পড়া বহু গাড়ি ও বাইক ঘুরিয়ে পুরাতন জাতীয় সড়কের রেলগেট দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সেখানেও গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় ৩০ মিনিট বন্ধ থাকে দ্বিতীয় রেলগেটটিও। এর জেরে পুরাতন জাতীয় সড়কের গেটের সামনে একের পর এক অ্যাম্বুল্যান্স আটকে পড়ে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, মালগাড়ি থেকে রেললাইনের দু'পাশে পাথর ফেলার কাজ চলছিল। তাই রেলগেট খুলতে দেরি হয়। যদিও রেলের তরফে কোনও কর্তা এ নিয়ে মুখ খোলেননি।