• এ বার ছত্তিসগড়ে 'বাংলাদেশি' সন্দেহে আটক ২৩ শ্রমজীবী
    এই সময় | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সুতি ও সামশেরগঞ্জ: রুটি-রুজির সন্ধানে ছত্তিসগড়ে পাড়ি দিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলার সামশেরগঞ্জ ও সুতি এলাকার যুবকরা। অভিযোগ, সেখানে ফেরি করার সময়ে তাঁদের 'বাংলাদেশি' সন্দেহে আটক করেছে ছত্তিসগড় পুলিশ। পরিবারের দাবি, বিলাসপুর থেকে ধরে তাঁদের রায়পুরের একটি ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। ওডিশার পরে এ বার ছত্তিসগড়ে বাংলার শ্রমিকদের 'বাংলাদেশি' তকমা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

    পরিবার সূত্রে খবর, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বিলাসপুরের থানার পুলিশ ওই শ্রমিকদের থানায় ডেকে পাঠায়। পরে তাঁদের আটক করা হয়। সূত্রের খবর, রবিবার তাঁদের বিলাসপুর জেলা আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। আটকদের মধ্যে সামশেরগঞ্জের ধানঘরা এলাকার মোস্তাকিম শেখ, তাঁর ভাই সাবির শেখ, সফিকুল ইসলাম, নাসিরুদ্দিন শেখ এবং সুতির হাড়োয়া এলাকার লাল্টু শেখ-সহ মোট ১৪ জন রয়েছেন। অন্য দিকে, সুতি থানা এলাকার ন'জন রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

    আটক নাসিরুদ্দিন শেখের বাবা বলেন, 'ছেলে এই এলাকাতেই জন্মেছে। গত ১০-১২ বছর ধরে বিলাসপুরে ফেরি করে।' তাঁর দাবি, আধার-ভোটার কার্ড, প্যান এবং স্কুলের শংসাপত্র রয়েছে ছেলের। তাঁর কথায়, 'সামশেরগঞ্জ থানা এসে নথি যাচাই করুক।' 'ওঁরা এখন কেমন আছেন, খেতে পাচ্ছেন কি না...' বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন নাসিরুদ্দিনের স্ত্রী রুকসানা।

    অন্য দিকে, মোস্তাকের স্ত্রী ফতেমা বিবির দাবি, এ বারই প্রথম প্রায় দু'মাস আগে স্বামী বিলাসপুরে কাজের জন্য যান। একটি ভাড়া বাড়িতে কয়েক জন শ্রমিক মিলে রান্না করছিলেন। তখন পুলিশ ঢুকে তাঁদের ধরে নিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ ইনামুল হকের কথায়, 'পরিচয় নিয়ে সংশয় থাকলে নথি যাচাই করা হোক। নির্দোষদের এ ভাবে হেনস্থা করা উচিত নয়।' ঘটনায় তৎপর জঙ্গিপুর পুলিশ জেলা প্রশাসনও। তারা ছত্তিসগড় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আটকদের পরিচয় ও নথিপত্র যাচাইয়ের চেষ্টা করছে। আটক শ্রমিকদের পরিবারের আবেদন রাজনৈতিক নয়, নাগরিকত্বের বৈধ নথিই যেন যাচাইয়ের মাপকাঠি হয়।

  • Link to this news (এই সময়)