বেআইনি ওষুধ ও প্রসাধনী মজুত রাখার অভিযোগে মহারাষ্ট্রের ৮৮০টি ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থার কারখানা এবং ওষুধ ও প্রসাধনীর দোকানের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিলেন মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) অফিসার তুকারাম মুন্ধে। জুন থেকে অগস্ট মাস পর্যন্ত তিন মাসে মহারাষ্ট্রের এই বিপুল সংখ্যক দোকান ও কারখানায় অভিযান চালিয়ে ১১.৪১ কোটি টাকা মূল্যের ওষুধ ও প্রসাধনী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, জুন থেকে অগস্ট মাসের মধ্যে FDA ওষুধ কারখানা এবং ওষুধ ও প্রসাধনীর দোকান মিলিয়ে ২৯০২টি অভিযান চালানো হয়। তার মধ্যে ওষুধ তৈরির কারখানায় ৬০৭টি এবং ওষুধ ও প্রসাধনীর দোকানে ২,২৯৫টি অভিযান হয়। এই অভিযানে বেশ কিছু কারখানা এবং দোকানে বেআইনি ওষুধ, মেয়াদ উত্তীর্ণ সামগ্রী উদ্ধার হয়। ১৪০টি কারখানা এবং ৭৪০টি দোকানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, ৬৭৭টি দোকান এবং কারখানার লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং ২০৩টি দোকান ও কারখানার লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, গোটা রাজ্য জুড়ে মুন্ধের নেতৃত্বে FDA-র বিশেষ দল মোট ১০৪টি Search-and Seizure Operation চালায়। এই অভিযানে ১১.৪১ কোটি টাকার ওষুধ এবং প্রসাধনী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, বেআইনি ওষুধ ও প্রসাধনী মজুতের অভিযোগে ২০টি FIR দায়ের হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২১ জনকে।
তদন্তে FDA-র আধিকারিকরা দেখেছেন, বেশ কিছু কারখানায় অননুমোদিত এবং বেআইনি ওষুধ উদ্ধার হয়। এ ছাড়াও, ওষুধের প্রোডাকশন রেকর্ডও ঠিক মতো ছিল না। এমনকী, রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্টের অনুপস্থিতিতেই কারখানা থেকে ওষুধ বিক্রির জন্য পাঠানো হচ্ছিল। এ ছাড়াও, একাধিক দোকানে অভিযান চালিয়ে তাঁরা দেখেছেন, বেশ কিছু জায়গায় প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ঘুমের ওষুধ-সহ একাধিক ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছিল। এ ছাড়াও, মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ সঠিক উপায়ে নষ্ট না করা, ইনসুলিন বা ভ্যাকসিন সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ না করারও অভিযোগ উঠেছে।
মুন্ধে জানিয়েছেন, নাগরিকদের কাছে যাতে নিরাপদ এবং সঠিক গুণমানসম্মত ওষুধ পৌঁছয় তা নিশ্চিত করাই FDA-র অগ্রাধিকার। উৎপাদন থেকে শুরু করে বিক্রি পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায় নিয়ন্ত্রণ করতে প্রশাসনের পক্ষে থেকে পরিদর্শন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগেও একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়ে মহারাষ্ট্রের একাধিক নামী রেস্তোরাঁ থেকে নষ্ট হয়ে যাওয়া দুধ, পনির এবং অন্যান্য খাবার উদ্ধার করেছিলেন মুন্ধে। এর জেরে অনেক রেস্তোরাঁর লাইসেন্সও বাতিল হয়েছে।