• নবমীতে পাঁঠার মাংস খাবেন শমীক, ‘দুর্গা-কালীকে মাংস নিবেদন হয়’, মত মোদীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টার
    এই সময় | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়: দুর্গাপুজোর সময়ে আমিষ না–খাওয়ার যে উপদেশ ‘বাগেশ্বর বাবা’ (ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী) দিয়েছেন, তার বিরোধিতা না–করলেও বাঙালি রীতি মেনে তিনি নবমীতে কচি পাঁঠাই খাবে বলে জানালেন বিজেপি–র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। পুজোর সময়ে যাঁরা আমিষ খান, তাঁদের বাগেশ্বর বাবা ‘পাখণ্ডি’ বলে চিহ্নিত করলেও, মধ্যপ্রদেশের সাধুর এই বক্তব্য সমর্থন করেননি শমীক।

    শমীকের সুরে সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যালও বলেন, ‘শাক্ত মতের অন্যতম আকরই তো মাংস! প্রথা মেনে মা দুর্গা ও মা কালীকে মাংস নিবেদন করা হয়। নবমী, দশমীতে ভক্তরা মাংস খান। এই পবিত্র রীতিতে কোনও রকম হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।’

    মধ্যপ্রদেশের ছতরপুরের বাগেশ্বর ধামের সাধু বাগেশ্বর বাবা রবিবার হাওড়ায় একটি অনুষ্ঠানে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের একটি বিষয় আমার একেবারে ভালো লাগে না। নবরাত্রি ও দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলের কাছে আমিষ খাওয়া হয়। খারাপ খারাপ খাবার রান্না করা হয়। এ বার দুর্গাপুজোয় হিন্দুরা জেগে উঠুন। এ কাজ যাঁরা করেন (আমিষ খান), তাঁদের বহিষ্কার করুন। এঁদের ধার্মিক বলা যায় না, এঁরা পাখণ্ডি।’

    ধীরেন্দ্রকৃষ্ণের এই মন্তব্যের ভিডিয়ো রবিবার থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার বিধাননগরে দলীয় সাংবাদিক বৈঠকে এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শমীক বলেন, ‘বিবেকানন্দ বলে গিয়েছেন, মা কালী এখানে পাঁঠা খাবেন। তাঁর উপরে কে আছেন? এখনও বিবেকানন্দের উপরে সে রকম কাউকে পাওয়া যায়নি। হঠাৎ কেউ তাঁর উপরে উঠে গেলে তো বিপজ্জনক! উনি (বাগেশ্বর) যা বলেছেন, তা ব্যক্তিগত মতামত। উনি অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। দেশজুড়ে আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা। তিনি আবেদন করেছেন। করতেই পারেন।’ শমীকের কথায়, ‘নবমীর দিন বাঙালি সাধারণত পাঁঠার মাংস খায়। অষ্টমীর দিন লুচি খায়। সেটাই খাবে। আমার তো বউ নেই, মা–বাবাও উপরে চলে গিয়েছেন। নইলে ওই দিন (আপনাদের) আমন্ত্রণ করে কচি পাঁঠার মাংস খাওয়াতাম। যদি আপনারা ডাকেন, আমি খেতে যাব। সঙ্গে অনেক বিজেপি কর্মীও যাবেন।’

    বাগেশ্বরের ‘পাখণ্ডি’ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতির বক্তব্য, ‘কেউ যদি পাখণ্ডি শব্দ বলেন, তা সমর্থন করছি না। এটা তৃণমূল বললে বা সিপিএম বললে প্রতিক্রিয়া দিতাম। আমি রাজনৈতিক কর্মী। কোনও সাধু, মৌলবি কোথায় কী বলছেন, তার সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক?’ এর পরেই অবশ্য হালকা মেজাজে বলেন, ‘তবে বিরিয়ানি কম খেলে ভালো।’

    বিরোধীরাও এ নিয়ে রাজ্যের শাসকদলকে বিঁধেছে। তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছেন, ‘এক জন অন্য রাজ্য থেকে এসে বাঙালিকে পাষণ্ড বলছেন বা এমন শব্দ ব্যবহার করছেন। মুখ্যমন্ত্রী–সহ ক্যাবিনেট সেই ব্যক্তিকে নিয়ে বসে খাতির–যত্ন করেছেন। যুগ যুগ ধরে দুর্গাপুজো হচ্ছে। ২০২৬–এ এসে বাঙালিকে শিখতে হবে দুর্গাপুজোর সময়ে কে কী করবে? বিজেপির কেউ প্রতিবাদ না–করে বিষয়টি শমীক লঘু করতে চাইছেন।’ তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের তরফে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘বাঙালি শাক্তমতে মায়ের যে আরাধনা করে, সেখানে আমিষ খাবার অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত। কোনও বাবা এই সংস্কৃতি ঠিক করে দেবেন না। আমি কী খাব, তা কোনও বাবা ঠিক করে দেবেন না।’ সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, ‘সত্যজিৎ রায়ের জয় বাবা ফেলুনাথ ছবিতে মছলিবাবা এবং মহাপুরুষ ছবিতে বিরিঞ্চিবাবাকে বাংলার মানুষ বহু বছর আগে দেখেছে। এই বাবাজিদের মানুষ জানেন। সঙ্ঘ পরিবার তাঁদের হিন্দুত্বের সংস্কৃতি সর্বত্র চাপিয়ে দিতে চায়। বাংলায় এই বাবা সে কাজ করছেন।’

    যদিও শমীক মনে করছেন অনেক চিকিৎসক থেকে বিশিষ্ট মানুষ ভেজিটেরিয়ান হওয়ার জন্য প্রচার করছেন। এই প্রচারে আপত্তির কিছু নেই — ‘এখন নিরামিষাশী হওয়ার জন্য প্রচার চলছে। বিজেপি বা কোনও সাধু নন, অনেক চিকিৎসকও বলছেন। বহু মানুষ প্রচার চালাচ্ছেন ...কিন্তু বাঙালি যা খাচ্ছে, তা–ই খাবে। বাঙালি মাছ–মাংস খাবে না? বাইরে থেকে এসে কে কী বলে গেলেন, তা নিয়ে এত চিন্তার কী রয়েছে? উৎকণ্ঠার কোনও কারণ নেই।’

  • Link to this news (এই সময়)