• 'ব্যাড টাচ'-এ ধৃত শিক্ষক, পাল্টা চাপ, অভিযোগ জানিয়ে একঘরে ছাত্রীর পরিবার
    এই সময় | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়, কোচবিহার: সাহেবগঞ্জ থানা এলাকার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্রী সম্প্রতি স্কুলের মধ্যেই এক শিক্ষকের হাতে নিগৃহীত হয় বলে অভিযোগ। এ নিয়ে অভিযোগ দায়ের হওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের মুক্তির দাবিতে সোমবার দিনভর বিদ্যালয়ের পঠন পাঠন বন্ধ রেখে পথে নামে ছাত্রছাত্রীরা। পথ অবরোধ করে শিক্ষকের মুক্তির দাবি জানায় তারা। ঘটনায় পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে পুলিশি নিরাপত্তা চেয়ে জেলা পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হলেন ওই ছাত্রীর বাবা।

    গত ২৫ অগস্ট বিদ্যালয়ের একজন অতিথি শিক্ষক সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ক্লাসের মধ্যেই শারীরিক ভাবে নিগ্রহ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ছাত্রীর বাবা পর দিন সাহেবগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে রয়েছেন ওই শিক্ষক। তাঁর বিরুদ্ধে পক্সো আইনে মামলা হয়েছে। এদিন বিদ্যালয়ের প্রায় কয়েকশ ছাত্রছাত্রী পথ অবরোধ করে ধৃত শিক্ষকের মুক্তির দাবি জানায়। পড়ুয়াদের দাবি শিক্ষক একেবারেই নির্দোষ। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের কোনও পঠন-পাঠন হয়নি। স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই ছাত্রী মেধাবী। সে ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল। ঘটনার দিন তার জন্মদিন থাকায় সে শ্রেণিকক্ষে চকোলেট বিতরণ করছিল। সেই সময় ওই শিক্ষক তাকে ব্যাড টাচ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর ছাত্রী বাড়িতে এসে ঘটনার কথা জানালে তার বাবা প্রথমে স্কুলে গিয়ে অভিযোগ জানায়। সেখানে কোনও সমাধান না হওয়ায় তিনি থানায় অভিযোগ করেন।

    কিন্তু এরপরই গোটা গ্রামীণ এলাকায় পরিস্থিতি পাল্টে যায়। অভিযোগ, বর্তমানে প্রায় এক ঘরে হওয়ার মতন পরিস্থিতি ওই পরিবারের। ওই ছাত্রীর বাবা সোমবার জেলা পুলিশ সুপারের কাছে একটি অভিযোগ জমা দেন। তিনি সেখানে জানান, তাঁর নাবালিকা কন্যার সঙ্গে হওয়া ঘটনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক মেয়ের পরিচয় প্রকাশ করে দেন। মামলাটিকে মিথ্যা আখ্যা দিয়ে একটি সভাও ডাকেন। পরবর্তীতে কোচবিহারের ডিআইয়ের নির্দেশে ওই সভা বন্ধ করা হয়। কিন্তু ৬ অগস্ট ফের অভিভাবকদের নিয়ে সভা করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর মেয়ে স্কুলে যেতে পারছে না এবং তার পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি ও চাপ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, 'আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদের আশঙ্কা, ওরা আমার মেয়ে ও পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করতে পারে।' তাই মেয়ে এবং ও পরিবারকে অবিলম্বে পুলিশি নিরাপত্তা প্রদান করার অনুরোধ জানান তিনি।

    যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, 'ওই ছাত্রীর বাবা মনগড়া কথা বলছেন। ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে ঢুকতে না দেওয়ার বিষয়টি একেবারেই ঠিক নয়। আর যে অভিযোগ হয়েছে সেই আইনি বিষয়, তা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই।'

  • Link to this news (এই সময়)