• কালীঘাটে দেবীর গয়না, সম্পদের ভল্টের চাবি 'ভ্যানিশ', বড় দুর্নীতি? FIR-এ ঠিক যা জানাল সাবর্ণ পরিবার
    আজ তক | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • কালীঘাট মন্দিরের মা কালীর গয়না ও মন্দিরের অন্য সম্পত্তি রাখা ভল্টের চাবির হদিশ নেই! এবার বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা জজের দ্বারস্থ হল কলকাতার প্রাক্তন জমিদার সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার।  ভল্টের চাবি ‘ভ্যানিশ’ হওয়ার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করার আবেদন জানিয়েছে পরিবারটি।

    বস্তুত, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা জজ পদাধিকারবলেই কালীঘাট মন্দির কমিটির  চেয়ারম্যান। জেলা জজকে দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগে সাবর্ণ রায়চৌধুরী ফ্যামিলি কাউন্সিল দাবি করেছে, একটি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কে থাকা ওই ভল্টের চাবির হদিশ নেই ১৯৮০ সাল থেকেই । এফআইআর দায়ের করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।

    কাউন্সিলের বক্তব্য অনুযায়ী,  দেবতাকে দেওয়া ভক্তদের গয়না এবং মন্দিরের অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ওই ভল্টে রাখা হয়েছে। কাউন্সিলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, চাবিটি না থাকায় বর্তমানে ভল্টের ভিতরে কী রয়েছে বা গয়না এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী অক্ষত অবস্থায় রয়েছে কি না, তা জানার কোনও উপায় নেই, ফলে তাঁরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

    তিনি জানান, পরিবারের শিকড় ও ঐতিহ্য কলকাতার প্রাথমিক ইতিহাস ও বিকাশের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে, সেই পরিবার মন্দিরের সম্পদ এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির নথির বিস্তারিত তথ্যও কর্তৃপক্ষের কাছে চেয়েছে।

    সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদের সম্পাদক দেবর্ষি রায়চৌধুরীর বক্তব্য, মন্দিরের সম্পদ সংরক্ষণের জন্য গঠিত কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। তার পর থেকে নিয়মিত ভাবে গয়না ও অন্যান্য সম্পদের হিসাব পরীক্ষা করা হয়নি বলে অভিযোগ।

    পরিবার পরিষদ আরও দাবি করেছে, এই ৪৬ বছরের দীর্ঘ সময়ের মধ্যে মন্দিরের সম্পদ নয়ছয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি শুধুমাত্র আর্থিক অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে অসংখ্য ভক্তের বিশ্বাস এবং আবেগও জড়িয়ে রয়েছে।

    দক্ষিণ কলকাতার কালিঘাটের কালী মন্দির ভারতের ৫২টি শক্তিপীঠের অন্যতম। এই বিষয়ে মন্দির কমিটির এক আধিকারিক বলেন, “বিষয়টি জেলা আদালতের স্তরে উঠলে আমরা উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত।” কাউন্সিল আরও দাবি করেছে, ২০১৪ সাল থেকে মন্দির কমিটির কোনও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এর ফলে মন্দিরের সম্পদের নজরদারি ও সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

     
  • Link to this news (আজ তক)