ধুঁকছে মোদির সাধের জনধন, ১৫ কোটি অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয়
বর্তমান | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নয়াদিল্লি: ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর সে বছরই আগস্ট মাসে প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনা চালু করেছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। জাতীয় এই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল, ভারতের প্রতিটি পরিবারকে ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় এনে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা। কিন্তু চালু হওয়ার ১২ বছর পর কেন্দ্রের এই কর্মসূচি ঠিক কী অবস্থায় রয়েছে? তথ্যের অধিকার (আরটিআই) আইনে এবিষয়ে একটি প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রক থেকে মিলেছে অবাক করে দেওয়ার মতো তথ্য। জানা গিয়েছে, মোট ৫৯ কোটি জনধন অ্যাকাউন্টের এক-চতুর্থাংশই (১৫.৩৬ কোটিরও বেশি) লেনদেনের না হওয়া সহ বিভিন্ন কারণে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে রয়েছে। আর ৫ কোটি ৭২ লক্ষ অ্যাকাউন্টের ব্যালান্স শূন্য। অর্থাৎ, এই অ্যাকাউন্টগুলিতে কানাকড়িও গচ্ছিত নেই! জনধন অ্যাকাউন্টগুলির এই বেহাল দশার নিরিখে রাজ্যগুলির মধ্যে শীর্ষে উত্তরপ্রদেশ। জনধন অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল ইন্ডিয়ার প্রচার সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সাধের প্রকল্প যে রীতিমতো ধুঁকছে, সরকারি পরিসংখ্যান থেকেই তা স্পষ্ট। ক’দিন আগেই কেন্দ্র দাবি করেছে, শেষ ত্রৈমাসিকে আর্থিক বৃদ্ধির হার হয়েছে ৭.৮ শতাংশ। বিরোধী শিবির ও অর্থনীতিবিদদের একটা অংশ বৃদ্ধির এই উচ্চ হারের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সেই বিতর্কের মধ্যেই জনধন অ্যাকাউন্ট নিয়ে খোদ সরকারি পরিসংখ্যানে নতুন প্রশ্ন উঠছে— দেশের কোটি কোটি নাগরিকদের হাতে ব্যাংকে রাখার মতো টাকা কই? মানুষের আর্থিক সামর্থই যদি তৈরি না হয়, ঘটা করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে লাভ কী? এবিষয়ে অবশ্য সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
জনধন অ্যাকাউন্ট নিয়ে তথ্যের অধিকার আইনে আবেদন জানিয়েছিলেন চন্দ্রশেখর গৌড় নামে এক সমাজকর্মী। জবাব দিয়েছে অর্থমন্ত্রকের অধীনস্থ আর্থিক পরিষেবা বিভাগ (ডিএফএস)। অর্থমন্ত্রক জানিয়েছে, দেশজুড়ে মোট ৫৯ কোটি ৩ লক্ষ ৭৪ হাজার ৯০৭টি জনধন অ্যাকাউন্টে সব মিলিয়ে গচ্ছিত রয়েছে ৩ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি টাকা (২০২৬ সালের ১২ আগস্ট পর্যন্ত)।১ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রকের দেওয়া জবাবে আরও জানানো হয়েছে, জনধন যোজনায় মহিলা অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮৯ লক্ষ (এর মধ্যেই রূপান্তরকামীরা অন্তর্ভুক্ত)। পুরুষ অ্যাকাউন্ট হোল্ডার ২৬ কোটি ১৪ লক্ষ। মোট নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টের সংখ্যা প্রকাশ করা হলেও গত পাঁচ বছরে কত অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়েছে, সেই তথ্য জানায়নি অর্থমন্ত্রক। কতগুলি অ্যাকাউন্টে ১০০ টাকারও কম রয়েছে, সাইবার প্রতারণা ও সন্দেহজনক লেনদেনের কারণে কতগুলি অ্যাকাউন্ট ব্লক বা ফ্রিজ করা হয়েছে, জানানো হয়নি সেই তথ্যও।
এই গোটা পরিসংখ্যানে একটা বিষয় স্পষ্ট—নিম্নবিত্ত মানুষের হাতে সঞ্চয় করার মতো টাকা নেই। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে গ্যাস থেকে চাল-ডাল, সবের দামই ঊর্ধ্বমুখী। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো সঙ্গী বেকারত্ব। প্রান্তিক মানুষের হাতে ভোগ্যপণ্য কেনার মতো টাকাই থাকছে না। ব্যাংকে সঞ্চয় তো দূরঅস্ত। অথচ, এই শ্রেণির মানুষের জন্যই মূলত জনধন যোজনা চালু করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। দাবি করেছিলেন, ব্যাংকিং পরিষেবা তিনিই প্রথম দেশের সব মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। বিরোধীদের কটাক্ষ, ব্যাংক তো মানুষের কাছে গেল, কিন্তু পকেটে টাকা থাকল না।