• ১ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবে সিলমোহর! প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতায় নজির ভারতের
    বর্তমান | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নয়াদিল্লি, ৮ সেপ্টম্বর: আত্মনির্ভরতা। দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা আরও শক্তিশালী করার পথে ভারত ফের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করল। সোমবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বা ডিএসির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণের জন্য প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকার একাধিক প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    এই বিপুল অর্থের মধ্যে প্রায় ৯৮ শতাংশই দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের কাছ থেকে সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংগ্রহের ক্ষেত্রে ব্যয় করা হবে। ফলে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগও আরও বড় মাত্রায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে। সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে বসা ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিলের বৈঠকে এই প্রস্তাবগুলিতে অনুমোদন দেওয়া হয়। তিন বাহিনীর জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংগ্রহের ক্ষেত্রে ‘অ্যাকসেপ্টেন্স অব নেসেসিটি’ দেওয়া হয়। এর ফলে স্থল, জল এবং বায়ু তিন ক্ষেত্রেই সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পথ আরও প্রশস্ত হল।

     অনুমোদন পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামগুলির মধ্যে রয়েছে কেমিক্যাল বায়োলজিক্যাল রেডিওলজিক্যাল অ্যান্ড নিউক্লিয়ার বা সিবিআরএন রেকি ভেহিকেলস, হাই মোবিলিটি ভেহিকেলস বা এইচএমভি, সেলফ-প্রোপেলড মেকানিক্যাল মাইন লেয়ার্স বা এমএমএল, অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার বা এএলএইচ, ট্রল ট্যাঙ্ক এবং অল-টেরেন ব্রিজ সিস্টেম।  রাসায়নিক বা পরমাণু অস্ত্রের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা শনাক্ত করা এবং সেগুলির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজে সিবিআরএন রেকি ভেহিকেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অন্যদিকে, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল কিংবা ঘন জঙ্গলঘেরা এলাকায় দ্রুত সেনা ও প্রয়োজনীয় রসদ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে হাই মোবিলিটি ভেহিকেল কার্যকর হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে জল ও স্থল—দুই ধরনের ভূখণ্ডেই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বত্র ব্যবহারযোগ্য ব্রিজ সিস্টেম এবং ট্রল ট্যাঙ্ক স্থলবাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়াবে বলে জানা গিয়েছে।

    নৌবাহিনীর ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নৌবাহিনীর এয়ার স্টেশনগুলিতে পুরনো এয়ার রুট সার্ভেইল্যান্স রাডারের পরিবর্তে আধুনিক  'অরুন্ধরা' রাডার বসানো হবে। এর ফলে সমুদ্র ও উপকূলীয় আকাশসীমায় নজরদারি আরও শক্তিশালী হবে। এ ছাড়া দেশীয় প্রযুক্তিতে মেরিন গ্যাস টারবাইন তৈরি ও সংগ্রহের প্রস্তাবেও অনুমোদন দিয়েছে ডিএসি। 

    ভারতীয় বায়ুসেনার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফাইটার জেট, ট্রান্সপোর্ট প্লেন এবং হেলিকপ্টারগুলির যুদ্ধকালীন কার্যক্ষমতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শত্রুপক্ষের রাডারকে নিষ্ক্রিয় করার উদ্দেশ্যে গ্রাউন্ড-বেসড মাল্টি-পারপাস জ্যামার বা জিবিএমপিজে সংগ্রহের সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও স্বনির্ভর করে তোলার এই দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ শুধু তিন বাহিনীর আধুনিকীকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রেও বড় ধরনের অর্থনৈতিক গতি তৈরি হবে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
  • Link to this news (বর্তমান)