ভাঙা রাস্তায় প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে অ্যাম্বুলেন্স, প্রসূতির গর্ভেই মৃত্যু সদ্যোজাতের
বর্তমান | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লখনউ, ৮ সেপ্টম্বর: প্রসবযন্ত্রণায় কাতর এক মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে প্রায় দুই ঘণ্টা ভাঙা রাস্তায় আটকে রইল অ্যাম্বুল্যান্স। শেষ পর্যন্ত গ্রামবাসীদের সাহায্যে ট্র্যাক্টর দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি টেনে বের করা হলেও হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই গর্ভেই মৃত্যু হল এক শিশুর। শিশুটির শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় বলে পরিবারের অভিযোগ। ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের গধওয়ার গ্রামে।
গ্রাম থেকে বেশ কয়েক কিলোমিটার পেড়িয়ে পৌঁছতে হয় স্থানীয় হাসপাতালে। তার উপর রাস্তার বেহাল দশা। খানা-খন্দে ভর্তি অর্ধেক রাস্তা। গাড়িতে করে যাতায়াত তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও গন্তব্যে যেতে কাঠঘর পোহাতে হয় মানুষদের। এবার তার জেরেই প্রাণ গেল এক সদ্যজাতর। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ সেপ্টেম্বর গধওয়ার গ্রামের বাসিন্দা প্রদীপ সিংয়ের স্ত্রী প্রসবযন্ত্রণায় আক্রান্ত হলে তাঁরা সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ফোন করেন। অ্যাম্বুলেন্সটি মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তায় আটকে যায়। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেও সেটি বের করা সম্ভব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত গ্রামবাসীরা একটি ট্র্যাক্টরের সাহায্যে অ্যাম্বুলেন্সটিকে টেনে রাস্তা থেকে বের করে আনেন। এরপর কোনওমতে ওই মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে সদ্যোজাত শিশুটির শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগে জানিয়েছে পরিবার।
ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও শোকাহত প্রদীপ কুমার রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। সোমবার মহকুমা শাসক বিনোদ কুমার জানান, গত ৫ সেপ্টেম্বর পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগটি পাওয়া যায়। অভিযোগটি ইতিমধ্যেই পূর্ত দপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানান তিনি। এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব তাঁর সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনটি শেয়ার করে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, দুর্নীতির কারণেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং রাস্তার অবস্থা-সহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই দায় নির্ধারণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।