ভাগাড় সমস্যা থেকে কর্মীদের মজুরি, পুর পরিষেবা নিয়ে উদ্বেগে চুঁচুড়ার বাসিন্দারা
বর্তমান | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: সমস্যা পিছু ছাড়ছে না চুঁচুড়া পুরসভার। তার জেরে পরিষেবা নিয়ে সংকটের আশঙ্কায় ভুগছেন নাগরিকরা। সোমবার নাগরিক বিক্ষোভের জেরে চুঁচুড়া পুরসভার ভাগাড়ে আবর্জনা ফেলার কাজ বন্ধ হয়ে গেল। ভাগাড় সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেখানে আবর্জনা উপচে পড়েছে। এর ফলে আশপাশের এলাকায় বাস করাই দায় হয়ে উঠেছে। এদিন বাসিন্দারা আবর্জনার গাড়ি থেকে বর্জ্য ফেলতে দেননি। এর ফলে শহরের সাফাই ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পরে বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনার পথ খুললেও ভাগাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চুঁচুড়ায় বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ এখনও চালু হয়নি। ফলে, আবর্জনা মজুতের সমস্যাও বহাল তবিয়তে রয়েছে। এই সমস্যার পাশাপাশি কর্মীদের বকেয়া মজুরি নিয়ে সমস্যায় পড়েছে পুরসভা। আজ, মঙ্গলবার থেকে কর্মবিরতিতে নামার কথা ছিল পুরকর্মীদের। যদিও রাতে পুরকর্তাদের বিশেষ অনুরোধে তা আরও সাতদিন পিছিয়ে দিয়েছে কর্মচারী সংগঠন। এদিকে, পুরকর্মী মহলে তীব্র ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষত সাফাই কর্মীদের টাকা প্রায় তিন মাস বকেয়া। এই পরিস্থিতিতে পুর পরিষেবা নিয়ে নাগরিকদের আতঙ্ক বাড়ছে। এ নিয়ে পুরকর্তারা প্রকাশ্যে কোনো বিবৃতি দিতে চাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুরকর্তা বলেন, ভাগাড় থেকে বকেয়া মজুরি— সব সমস্যাই মেটানোর আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্রুত সমস্ত ক্ষোভ-বিক্ষোভ মিটে যাবে। চুঁচুড়ার বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগ বলেন, নাগরিক পরিষেবায় আমাদের দায়বদ্ধতায় কোনো ত্রুটি থাকবে না।
চুঁচুড়া পুরসভার শ্রমিক মঞ্চের কর্তা তথা সিপিএম নেতা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, দেওয়ালে কর্মীদের পিঠ ঠেকে গিয়েছে। তীব্র রোষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এদিন পুরকর্তারা বকেয়া মজুরি মেটাতে আরও সাতদিন সময় চেয়েছেন। আপাতত আমরা সেই আবেদন মেনেছি। কিন্তু পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। ইতিবাচক কোনো পদক্ষেপ না করলে আমরা কর্মবিরতিতে যাব। চুঁচুড়া পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা অমিত রায় বলেন, কর্মীদের জন্য আমাদের সরকার বিশেষ প্যাকেজ দিয়েছিল। নাগরিক সমস্যার কথা মাথায় রেখে নতুন সরকার সেই পথে হাঁটছে না কেন? কর্মী থেকে বাসিন্দা— সকলকেই বিপদে ফেলা হচ্ছে।
সোমবার সকাল থেকেই ভাগাড়ের আবর্জনা উপচে পড়া নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। ভাগাড়ের কাছে আবর্জনার গাড়ির লাইন পড়ে যায়। ফলে, এদিন শহরে সাফাই নিয়ে সমস্যা হয়েছে। বেলার দিকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন কর্মীরা। বিকালে পুরকর্তাদের তৎপরতায় সমঝোতা সূত্র বের হলেও কর্মীরা পুর প্রশাসনের কাজে তিতিবিরক্ত। এই ডামাডোলের জেরে আখেরে সাফাই থেকে অন্যান্য পরিষেবা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে চুঁচুড়াবাসীর।