কর্মী ছাঁটাই শুরু করল স্যামসাং ইন্ডিয়া, প্রায় ১০০ আধিকারিককে ইস্তফা দেওয়ার নির্দেশ
আজকাল | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: ব্যয় বাড়ছে, তবে চাহিদা কমছে। ফলে কোষাগারে টান। ফলে ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট 'স্যামসাং ইন্ডিয়া' টেলিভিশন এবং হোম অ্যাপ্লায়েন্স ব্যবসায় কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত ৮০-১০০ জন শীর্ষ আধিকারিককে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। এই কর্মী ছাঁটাই ধাপে ধাপে করা হচ্ছে। ছাঁটাইয়ের তালিকায় রয়েছেন, সংস্থার দপ্তরের পরিচালক-স্তরের কর্মী ও টিম লিডদের পাশাপাশি শাখা ও এলাকা ব্যবস্থাপক-সহ বিভিন্ন স্তরের কর্মচারীরা
স্যামসাং-এর মেমরি চিপের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে, অন্যদিকে ভারতীয় রুপির অবমূল্যায়ন, স্মার্টফোনের বিক্রি কমে যাওয়া এবং কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি- মুনাফার ওপর চাপ বাড়িয়েছে। তাই সংস্থাটি কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হেঁটেছে।
বিক্রয় ও বিপণন বিভাগে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাঁটাই হতে পারে
এই কর্মী ছাঁটাই হচ্ছে স্যামসাং-এর টেলিভিশন এবং হোম অ্যাপ্লায়েন্স ব্যবসায়। তবে, এর পরিধি আরও বাড়তে হতে পারে। জানা গিয়েছে, স্যামসাং-এর ইলেকট্রনিক্স ব্যবসার বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের কর্মীদের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাঁটাই হতে পারে। এর মধ্যে সরাসরি সংস্থাতে কর্মরত কর্মচারী এবং ম্যানপাওয়ার এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত অফ-রোল কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত।
স্যামসাং-এর দেশীয় ইলেকট্রনিক্স বিক্রয় দলে প্রায় ৫৫০-৬০০ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। এর পাশাপাশি তাদের স্মার্টফোন বিক্রয় বিভাগটিও অনেক বড়।
একজন চাকরি-হারা কর্মী জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিন অল্প অল্প করে ছাঁটাইয়ের চিঠি দেওয়া হচ্ছে । কিছু কর্মচারীকে নোটিশ পিরিয়ড শেষ হওয়ার আগেই চলে যেতে বলা হয়েছে।
স্যামসাং চাকরিচ্যুতদের তিন মাসের বেতন দিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া প্রতি বছর চাকরির জন্য অতিরিক্ত এক মাসের বেতন দিচ্ছে।
স্যামসাং কেন কর্মী ছাঁটাই করছে?
স্যামসাং ইন্ডিয়ার উপর বিভিন্ন দিক থেকে চাপ আসছে। সংস্থাটির উপর মেমোরি চিপের ভয়ঙ্কর দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে ২০২৬ অর্থবর্ষ জুড়ে রুপির প্রায় ১০ শতাংশ অবমূল্যায়ন স্মার্টফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
এমন এক সময়ে এটি ঘটেছে যখন ভারতের স্মার্টফোন বাজার এমনিতেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। স্মার্টফোনের বিক্রি বছরে ১১-১২ শতাংশ কমেছে।
স্যামসাং-এর জন্য স্মার্টফোন ব্যবসা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভারতে তাদের আয়ের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই আসে মোবাইল ফোন থেকে।
এই বছর জোরালো প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, সংস্থাটি উচ্চমূল্যের এয়ার-কন্ডিশনার বিভাগে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছে। কাঁচামালের উচ্চমূল্য তাদের কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স ব্যবসার উপর আরও চাপ বাড়িয়েছে।
স্মার্টফোন টিম আপাতত নিরাপদ
তবে, স্যামসাং-এর স্মার্টফোন কর্মীদের চলতি কর্মী ছাঁটাইয়ের বাইরে রাখা হয়েছে। এর কারণ, ভারতে স্মার্টফোনই স্যামসাং-এর সবচেয়ে বড় ব্যবসা। আসন্ন দিপাবলীতে চাহিদা বাড়ার আশা রয়েছে। উৎসবের মরসুমে বিক্রি বাড়লে ভারতে সংস্থাটির বৃহত্তর ব্যবসায় কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
স্যামসাং-এর প্রিমিয়াম গ্যালাক্সি ফোল্ড এবং ফ্লিপ স্মার্টফোনগুলোও ভাল সাড়া পেয়েছে, যদিও ১ লক্ষ টাকার বেশি দামের স্মার্টফোনের সামগ্রিক বাজার মোট বিক্রির মাত্র ৪ শতাংশ।
তবে, স্যামসাং-এর বৃহত্তর স্মার্টফোন ব্যবসায় চাপের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এপ্রিল-জুন মাসে ভারতের স্মার্টফোন বাজারে স্যামসাং দ্বিতীয় স্থান থেকে তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে। ভিভো বাজার ভাল, এই সংস্থাই একনম্বরে। তারপরই রয়েছে অপো।
দেশে স্যামসাং ইন্ডিয়ার একটি উল্লেখযোগ্য ব্যবসা থাকা সত্ত্বেও এই কর্মী ছাঁটাই করা হচ্ছে।
রেজিস্ট্রার অফ কোম্পানিজের কাছে জমা দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবর্ষে সংস্থাটির মোট রাজস্ব ছিল ১.১ লক্ষ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি।
এই বছরে এর নীট মুনাফা ৩৮ শতাংশ বেড়ে ১১,২৮৭ কোটি টাকা হয়েছে। স্যামসাং ইন্ডিয়ার মোট বিক্রয়ের প্রায় ১১ শতাংশ আসে হোম অ্যাপ্লায়েন্স থেকে, যা স্মার্টফোনের পর সংস্থাটির দ্বিতীয় বৃহত্তম বিভাগ।