• ডার্বিতে মজে আট থেকে আশি, ম্যাচ ড্র-র পরেও ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকদের উচ্ছ্বাস
    এই সময় | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • আশিস নন্দী, বারাসত

    বারাসতের নয়ন কাননে থাকেন কুড়ি বাইশের দুই বোন রূপা ও দিশা মণ্ডল। দু'জনেই মোহনবাগানের সমর্থক। রূপা এর আগে ডার্বি দেখতে ছুটেছিল সল্টলেক স্টেডিয়ামে। কিন্তু মাঠে বসে প্রিয় দলের খেলা দেখা হয়ে ওঠেনি দিশার। বারাসত স্টেডিয়ামে এ দিন সবুজ-মেরুন জার্সি পরে দুই বোন ডার্বির উত্তাপ নিতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে বারাসত স্টেডিয়ামে প্রথম ডার্বি ম্যাচ ঘিরে এলাকায় ছিল লাল-হলুদেরই দাপট। পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ ড্র করার পর ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভেসে যায় গোটা বারাসত।

    শহরে প্রথম ডার্বি ঘিরে সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনেও উচ্ছ্বাস আর উন্মাদনায় ভেসেছে জেলা সদর বারাসত। একরত্তিকে কোলে নিয়ে স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছেন মা-বাবা। তবে, টিকিট নিয়ে হাহাকারের বিপরীত ছবিটাও দেখা গিয়েছে স্টেডিয়ামের বাইরে। সকালের মুষল ধারে বৃষ্টি ছন্দপতন ঘটিয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টি থামতেই ডার্বির উত্তাপ নিতে বারাসতের স্টেডিয়ামমুখী হয়েছেন জেলার ফুটবলপ্রেমীরা। মাঠে ঢোকার নির্দিষ্ট সময় ছিল বিকেল তিনটে। খেলা শুরু বিকেল পাঁচটায়। কিন্তু দুপুর দেড়টা থেকেই স্টেডিয়ামের সামনের কেএনসি রোড কার্যত চলে যায় দুই দলের সমর্থকদের দখলে।

    কদিন আগে ডুরান্ড কাপের পাইনালে মোহনবাগানের জালে চার গোল দিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। বারাসতেও চার গোলের পুনরাবৃত্তির আশায় বারাসত থানার উল্টোদিকে বিরাট ব্যানার নিয়ে জটলা করেন লাল-হলুদ ফ্যান ক্লাবের সদস্যরা। প্রিয় দলের স্লোগান তুলে নাচতেও দেখা গিয়েছে লাল-হলুদ সমর্থকদের। ভেঁপু আর বাঁশির শব্দে জমজমাট হয়ে ওঠে মাঠের বাইরের রাস্তা।

    বারাসতের কাজিপাড়া থেকে এসেছিলেন মোহনবাগানের কট্টর সমর্থক আবু হোসেন। রেল দুর্ঘটনায় দুটো পা কাটা গিয়েছে। টিকিট না থাকলেও হুইল চেয়ারেই মাঠের বাইরে এসেছিলেন তিনি। ফুটবলপ্রিয় আবুর জন্য একটা টিকিট জোগাড় করে দেন জেলার এক রিপোর্টার। কিন্তু সেই টিকিটটা ছিল ইস্টবেঙ্গল গ্যালারির। সেখানে বসেই আবু ডার্বি দেখেছেন। বারাসতের নবপল্লির বাসিন্দা বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী যুধাজিৎ সেনগুপ্তও ছেলের হাত ধরে মাঠে আসেন। তবে খেলা শুরু হওয়ার পরেও একটা টিকিট জোগাড় করতে না পেরে বহু সমর্থক মাঠে ঢুকতে পারেননি। সেই আক্ষেপ নিয়ে কেউ হতাশ হয়েছেন। কেউ আবার পুলিশের কাছে টিকিটের আবদার করেছেন। কেউ কেউ ৩০০ টাকার টিকিট ৫০০ টাকায় কিনে খেলা শুরুর পরেও মাঠে ঢুকেছেন।

    মাঠে এবং মাঠের বাইরে দুই দলের সমর্থকদের ভিড় সামাল দিতে ১১০০ পুলিশ কর্মী এবং আধিকারিকরা মোতায়েন ছিলেন। সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীও ছিল। কেএনসি রোডের দু'দিকে দু'টি ড্রপ গেট করে ভিড় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বারাসত পুলিশ জেলার কর্তারা। পুলিশ সুপার জে মার্সি বলেন, 'পুলিশ অফিসার থেকে সব স্তরের পুলিশ কর্মীদের সহযোগিতায় ডার্বি ম্যাচ সুষ্ঠু ভাবে করাতে পেরেছি।' বিধায়ক শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'সকলের সহযোগিতা শুরু থেকে ছিল। কোনও গণ্ডগোল হয়নি।'

  • Link to this news (এই সময়)