• অচল সিসিইউ চালু এই মাসেই, রেফারে কড়া স্বাস্থ্যভবন
    এই সময় | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়: রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে ক্রিটিক্যাল কেয়ার পরিষেবা খোলনলচে বদলাতে কড়া পদক্ষেপ স্বাস্থ্য দপ্তরের। পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও যে সব হাসপাতালে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) বা ইন্টেন্সিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) কার্যত অচল হয়ে পড়ে রয়েছে, সেগুলি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত রোগী রেফার করার প্রবণতা কমাতে রেফারেল নীতি কঠোর ভাবে মানার নির্দেশও দিয়েছে স্বাস্থ্যভবন। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশিকার প্রেক্ষিতে দেশজুড়ে অভিন্ন আইসিইউ গাইডলাইন কার্যকর করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ বলে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর।

    স্বাস্থ্য দপ্তরের ১১ দফা অ্যাডভাইজ়রিতে বলা হয়েছে, কোনও হাসপাতালে সিসিইউ বা আইসিইউ-এর পরিকাঠামোগত কাজ সম্পূর্ণ হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে ইউনিট হস্তান্তর হয়ে থাকলে তা ফেলে রাখা যাবে না। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিষেবা চালু করতে হবে। বীরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতাল, ফ্রেজ়ারগঞ্জ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, চন্দননগর মহকুমা হাসপাতাল, গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালের পাশাপাশি সাগরদিঘি, বেলদা, ডেবরা, শালবনি ও মেটিয়াবুরুজ সুপার–স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল ও আমতলা ট্রমাকেয়ার ইউনিটকে এই তালিকায় চিহ্নিত করা হয়েছে। কোথায় কী কারণে পরিষেবা চালু করা যাচ্ছে না, সেই রিপোর্টও স্বাস্থ্য দপ্তরকে জানাতে হবে।

    রেফারেল নিয়েও কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। খাতড়া, মাথাভাঙা, দিনহাটা, দুর্গাপুর, হলদিয়া ও ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতাল, ছাতনা ও ওন্দা সুপার–স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল, দার্জিলিং, কালিম্পং ও আসানসোল জেলা হাসপাতালে তুলনামূলক বেশি রেফারেল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। কেন এত রোগীকে অন্যত্র পাঠাতে হচ্ছে, তার কারণ খতিয়ে দেখে রেফারেল রেট কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    স্বাস্থ্যকর্তারা জানাচ্ছেন, নতুন নিয়মে রেফারের আগে রোগীকে যথাসম্ভব স্থিতিশীল করতে হবে। যে হাসপাতালে পাঠানো হবে, সেখানে ক্রিটিক্যাল কেয়ার বেড রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত না করে রোগী পাঠানো যাবে না। সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ডেপুটি বা অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারকে বিষয়টি জানাতে হবে। প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্যভবনের ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল রুমের সাহায্য নিতে হবে। তবে পরিবার নিজ দায়িত্বে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে তাকে ব্যতিক্রমী হিসেবে ধরতে হবে।

    স্বাস্থ্যভবন সূত্রের খবর, একই সঙ্গে সিসিইউ-তে যোগ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত মেডিক্যাল অফিসার ও নার্সিং স্টাফ রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নজরদারি, সাপ্তাহিক রিভিউ মিটিং এবং অভিযোগ জানানোর জন্য ‘গ্রিভান্স রিড্রেসাল’ ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ রয়েছে। রোগীর চিকিৎসা, ভাইটাল প্যারামিটার, ওষুধ, নার্সিং সংক্রান্ত তথ্য-সহ যাবতীয় তথ্য ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনফর্মেশন সিস্টেম’ পোর্টালে নথিভুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ, কাগজের রেজিস্টারের বদলে ‘পেপারলেস সিসিইউ’ ব্যবস্থার দিকেও এগোচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর।

  • Link to this news (এই সময়)