• Satya Niketan Building Collapse: ভাড়ার লোভে দুর্বল ভিতের উপরে বানানো হয়েছিল অতিরিক্ত চার তলা, এ বার পাশের বিপজ্জনক বাড়িও ভাঙবে MCD
    এই সময় | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • দিল্লির সত্য নিকেতনে ছয় তলা বাড়ি ভেঙে অকালে সাতটি প্রাণ ঝরে যাওয়ায় হুঁশ ফিরল প্রশাসনের। FIR-এ সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, বাড়ির পুরোনো ভিত যে অতিরিক্ত ভার বহন করতে পারবে না, তা জানা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ভাড়ার লোভে তার উপরে আরও চারটি তলা তৈরি করা হয়েছিল। নির্মাণের ফলে বাড়িটির ভার বহনের ক্ষমতা বিপজ্জনক সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল বলেই প্রাথমিক তদন্তে মনে করছে পুলিশ। সেই বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের পাশাপাশি বাড়ির অবশিষ্ট অংশ বুধবারের মধ্যে ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরসভা।

    এ ছাড়া ওই বাড়ি পাশে থাকা আরও একটি বাড়িকে বিপজ্জনক ও দুর্বল বলে চিহ্নিত করেছে দিল্লি পুরনিগম (MCD)। আগামী এক-দু’দিনের মধ্যেই ধাপে ধাপে ওই বাড়িটিও ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    MCD কমিশনার সঞ্জীব খিরওয়ার জানিয়েছেন, পাশের বাড়িটির কাঠামো এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, তাকে নিরাপদ বলে মনে করা হচ্ছে না। বিপদ এড়াতে পিছনে এবং মাঝের অংশে ১৮ থেকে ২০টি লোহার গার্ডরেল বসানো হয়েছে। তবে এই ব্যবস্থা সাময়িক। আগামী এক থেকে দু’দিনের মধ্যে পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে বাড়িটি ভেঙে ফেলা হবে।

    FIR-এ বাড়ির মালিক হরিরাম গুপ্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো কাঠামোর ভিত অতিরিক্ত ওজন নেওয়ার মতো শক্তিশালী ছিল না। তা জানা সত্ত্বেও উপরের দিকে চারটি তলা তৈরি করা হয়।

    FIR-এ অভিযোগ করা হয়েছে, ভাড়া থেকে আয় বাড়ানোর জন্যই অতিরিক্ত নির্মাণ করা হয়েছিল। নতুন তলা এবং অন্যান্য নির্মাণের ফলে বাড়িটির কাঠামোর উপর ক্রমশ চাপ বাড়তে থাকে। একসময়ে তার ভার বহনের ক্ষমতা সীমা ছাড়িয়ে যায়। তার পরেই ঘটে ভয়াবহ বিপর্যয়।

    প্রাথমিক পরিদর্শনে উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের একাংশের মতে, ওই বাড়ির গ্রাউন্ড ফ্লোরে যথাযথ পিলার ও বিম ছিল না। পরে ধাপে ধাপে একের পর এক তলা যোগ করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ধরনের নির্মাণ পদ্ধতি বাড়ির ভার বহনের ক্ষমতা এবং সামগ্রিক স্থায়িত্ব মারাত্মক ভাবে কমিয়ে দিতে পারে।

    ধসে পড়া বাড়িটিতে ৩০টি ঘরে রাখা হয়েছিল ৭৫টি বেড। গাদাগাদি করে থাকতেন পড়ুয়ারা। মাসে প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে ওই সংকীর্ণ ঘরেই দুই থেকে তিন জন করে পড়ুয়া থাকতেন বলে জানা গিয়েছে।

    ঘটনার পরে বাড়ির মালিক ৮১ বছরের হরিরাম গুপ্তাকে রাজস্থানের ভিওয়াড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর ৭৫ বছরের স্ত্রী উর্মিলা গুপ্তা এবং ৫২ বছরের ছেলে মহেশ গুপ্তাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হরিরাম এবং তাঁর স্ত্রীকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। ছেলেকে দু’দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

    দক্ষিণ দিল্লির সত্য নিকেতনের ওই ভেঙে পড়া বাড়িটিতে চলত ‘Hostel Daze’ নামে একটি PG। রবিবার দুপুরে আচমকাই সেটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় সাত জনের। তাঁদের মধ্যে পাঁচ জনই দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া। নিহত ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন অভিষেক কুমার (২০), যুবরাজ সোনি (২০), পবন কুমার (১৭), অর্পিত জাহাজ (১৮) এবং অক্ষত সিংহ যাদব (১৮)। এছাড়া ৭৫ বছরের শ্রমিক সুরিন্দর সিংহ এবং ৩০ বছরের পবন লাল কোরিরও মৃত্যু হয়েছে।

    এই দুর্ঘটনার পরে আশপাশের আরও ছ’টি বাড়ি সিল করে দিয়েছে MCD। অর্থাৎ, একটি বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনায় গোটা এলাকায় একের পর এক নির্মাণের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    সত্য নিকেতন কাণ্ডের পরে শুধু একটি এলাকা নয়, গোটা দিল্লির PG ব্যবস্থাকে নিয়েই কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর রাজধানীর সমস্ত PG হাবে থাকা বাড়ির স্ট্রাকচারাল অডিট করার নির্দেশ দিয়েছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে এই পরীক্ষা শেষ করার কথা।

    প্রশ্ন: সত্য নিকেতনে বাড়িটি কেন ভেঙে পড়েছিল?

    উত্তর: FIR ও প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ, প্রায় ৫০ বছরের পুরনো দুর্বল কাঠামোর উপর বাড়তি চারটি তলা তৈরি করা হয়েছিল। ভাড়ার আয় বাড়ানোর জন্য এই অতিরিক্ত নির্মাণ করা হয় বলে অভিযোগ। ফলে বাড়িটির উপর অতিরিক্ত কাঠামোগত চাপ তৈরি হয়েছিল।

    প্রশ্ন: সত্য নিকেতনের বাড়িটিতে কতগুলি তলা ছিল?

    উত্তর: ধসে পড়া বাড়িটি ছয়তলা ছিল। পুলিশি তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, পুরনো কাঠামোর উপর অতিরিক্ত চারটি তলা তৈরি করা হয়েছিল।

    প্রশ্ন: সত্য নিকেতনের বিপজ্জনক বাড়িটি কে ভাঙবে?

    উত্তর: দিল্লি পুরনিগম বা MCD বাড়িটির অবশিষ্ট অংশ ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে সেটি ভাঙা হবে।

    প্রশ্ন: সত্য নিকেতনের ঘটনায় কত জনের মৃত্যু হয়েছে?

    উত্তর: ধসে পড়া PG বাড়িটির ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে মোট সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে পাঁচ জন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ছিলেন।

    প্রশ্ন: ধসে পড়া বাড়িটিতে কত জন থাকতেন?

    উত্তর: বাড়িটির ৩০টি ঘরে মোট ৭৫টি বেড ছিল বলে জানা গিয়েছে। ঘরগুলিতে সাধারণত দুই থেকে তিন জন করে পড়ুয়া থাকতেন।

    প্রশ্ন: সত্য নিকেতন বাড়ির মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি?

    উত্তর: হ্যাঁ। বাড়ির মালিক ৮১ বছরের হরিরাম গুপ্তাকে রাজস্থানের ভিওয়াড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর ৭৫ বছরের স্ত্রী উর্মিলা গুপ্তা এবং ৫২ বছরের ছেলে মহেশ গুপ্তাকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    প্রশ্ন: সত্য নিকেতন বাড়ি ধসের ঘটনায় কী অভিযোগে মামলা হয়েছে?

    উত্তর: পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫, ২৯০ এবং ১২৫(এ) ধারায় মামলা করেছে। এর মধ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যুর কারণ হওয়া, বাড়ি নির্মাণ বা সংস্কারে গাফিলতি এবং মানুষের জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্ন করার অভিযোগ রয়েছে।

    প্রশ্ন: সত্য নিকেতন দুর্ঘটনার পর দিল্লির অন্য PG নিয়েও কি পদক্ষেপ হয়েছে?

    উত্তর: হ্যাঁ। দুর্ঘটনার পর আশপাশের আরও ছ’টি বাড়ি সিল করেছে MCD। পাশাপাশি দিল্লির সমস্ত PG হাবে থাকা বাড়ির স্ট্রাকচারাল অডিট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে সেই পরীক্ষা শেষ করার কথা।

  • Link to this news (এই সময়)