• কোন কাজ করলে অন্নপূর্ণা সহ সব ভাতা বন্ধ হবে? শুভেন্দু আগেভাগেই সতর্ক করলেন
    আজ তক | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নাবালিকা মাতৃত্ব এবং বাল্যবিবাহ— এই দুই ক্ষেত্রেই রাজ্য এখন এক নম্বরে। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই তথ্য জানিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই পরিস্থিতিতে বাল্যবিবাহ এবং নাবালিকা মাতৃত্ব রুখতে এ বার কড়া আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছে রাজ্য সরকার। শুভেন্দু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে POCSO এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধীনে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হবে। পাশাপাশি, তাঁদের সব রকম সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি
    শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ১৮ বছরের আগে যে মেয়েরা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, তাঁদের স্বামীর বিরুদ্ধে পকসো আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে মামলা করবে। দোষীর সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। সরকারি সুযোগ, সামাজিক ভাতা থেকেও বঞ্চিত হতে হবে তাঁদের। 

    কী কী শাস্তির বিধান
    প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালের বাল্যবিবাহ আইন অনুসারে ১৮ বছরের কমবয়সি মেয়ে, ২১ বছরের কমবয়সি ছেলে অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে গণ্য। ২১ বছরের আগে কোনও পুরুষ বিয়ে করলে তার দু’বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে। সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা জরিমানাও হতে পারে। বাল্যবিবাহ হলে তা পকসো আইনের আওতায় আসবে। কিশোরী স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অপরাধ প্রযোজ্য। সে ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। কিশোরীর বয়স ১৬ বছরের কম হলে, দোষীর যাবজ্জীবন হতে পারে । ৬ নম্বর ধারা অনুসারে, অপরিণত বয়সে স্ত্রী যদি সন্তান ধারণ করে তবে স্বামীর সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে।

    বাবা-মা— কাউকেই রেয়াত নয়
    বাল্যবিবাহ রোধে ২০০৬–এর আইন এবং পকসো আইনের বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, শুধু স্বামী নন, বিয়েতে মদতদাতা পুরোহিত বা কাজি, বাবা-মা— কাউকেই রেয়াত করা হবে না। পকসো আইনের ৪ এবং ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এমনকী মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। তাঁর কথায়, ‘যারা (স্বামী) ১৮ বছরের নীচের কাউকে বিয়ে করেছে এবং কিশোরী স্ত্রীয়ের টিন–এজ ডেলিভারি হয়েছে, তাঁরা প্রথমে পকসো আইনে জেলে চলে যাবেন। আপাতত আমরা শো–কজ় করেছি৷ পরে সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করব আমরা। রাস্তায় গড়াগড়ি খেলেও পাবেন না।’ প্রসঙ্গত, আইনের ১০ নম্বর ধারা অনুসারে, বাল্যবিবাহে সহায়তা বা সম্পাদন করলে সর্বোচ্চ দু’বছরের কারাদণ্ড, ১ লক্ষ টাকা জরিমানা হতে পারে। কাজী, পুরোহিত সেই কাজ করলে তাঁর এই সাজা হতে পারে। ১১ নম্বর ধারা অনুসারে, বাবা-মা, অভিভাবক বাল্যবিবাহে উৎসাহ বা অনুমতি দিলে বা বিষয়টি অবহেলা করলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। ১৩ নম্বর ধারা অনুসারে, আসন্ন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে।

    সামাজিক ভাতা বন্ধ 
    শুভেন্দু জানিয়েছেন, ১৮ বছরের কম বয়সে কোনও মেয়ে গর্ভধারণ বা সন্তান প্রসব করলে পকসোর ধারা অনুযায়ী, তা রিপোর্ট করা আবশ্যক। এ সব ক্ষেত্রে স্বতঃপ্রবৃত্ত মামলা হবে। তার পরে দোষীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। পকসো আইন মেনে তাঁকে জেলে ভরা হবে। সামাজিক ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হবে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, এ ক্ষেত্রে ধর্ম দেখা হবে না। যদিও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সি যে মেয়েরা মা হয়েছেন, তাঁদের ৫৩ শতাংশ মুসলিম। 

    রাজ্যজুড়ে দ্রুত অ্যাকশন হবে
    জানানো হয়েছে, রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফে প্রত্যেক নাবালিকা বধূর পরিবারের কাছে, স্বামীদের কাছে শোকজ লেটার যাবে। স্ত্রীয়ের বয়স যে ১৮ পেরিয়ে গিয়েছে, সেই বিষয় প্রমাণ করতে হবে। সেটি প্রমাণ করতে না পারলে কড়া শাস্তি হবে। সেক্ষেত্রে স্ত্রীর স্কুলের সার্টিফিকেট, আধার কার্ড, বার্থ সার্টিফিকেট নথির প্রমাণ হিসেবে দিয়ে যথাযথ প্রমাণ করতে হবে।  হাসপাতালে নাবালিকা স্ত্রীর প্রসব হলেও কড়া পদক্ষেপ করা হবে।হাসপাতালের ডাক্তার, আধিকারিকদের ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা হতে পারে। এক্ষেত্রে পকসো আইনে পদক্ষেপ হবে। জানানো হয়েছে, ১৮ বছরের নিচে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে পকসো ধারা ৩ ও ৪ অনুসারে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। সেক্ষেত্রে ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। নাবালিকার বয়স ১৬ বছরের কম হলে আজীবন কারাবাসও হতে পারে। নাবালিকা গর্ভধারণ করলে ২০ বছরের জেল হতে পারে।  শুভেন্দু বলছেন, যেসব পুরোহিত, কাজি বাল্যবিবাহ দিয়েছেন বা দিচ্ছেন এবং যেসব পরিবারের সদস্যরা এই ধরণের বিয়ের বন্দোবস্ত করছেন তাঁরা ছাড় পাবেন না। সবাইকে পাকড়াও করা হবে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা অনুসারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 
  • Link to this news (আজ তক)