পচাগলা দেহে আংটি দেখে শনাক্ত, দাহ করার ২ বছর পর ঘরে ফিরল মেয়ে! অবাক পরিবার
প্রতিদিন | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নর্দমা থেকে উদ্ধার হয়েছিল পচা গলা দেহ। হাতে থাকা আংটি দেখে শনাক্তও করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। দেহ উদ্ধার করে এরপর করা হয় সৎকারও। এরপর কেটে যায় বেশ কয়েকমাস। হঠাৎ বাড়ির দরজা খুলেই চমকে গেলেন আত্মীয়রা। ভূত নাকি! এ তো সেই, যাকে কয়েকমাস আগে দাহ করা হয়েছিল। উত্তর প্রদেশের (Uttar Pradesh) লখনউতে এমনই অবিশ্বাস্য ঘটনার সাক্ষী হল একটি পরিবার। মৃত বলে ধরে নিয়ে যার দেহ সৎকার করে ফেলেছিলেন পরিবারের সদস্যরা, সেই মহিলা ২৭ মাস পর হঠাৎ জীবিত অবস্থায় বাড়ি ফিরে এসেছেন। এমন ঘটনায় তাজ্জব পুলিশও। ঘটনায় নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৮ বছরের শিবানী লখনউয়ের বিকেটি তহসিলের নাভিকোট নন্দনা গ্রামের বাসিন্দা। ২০২৪ সালের ২ মে তিনি আচমকা নিখোঁজ হয়ে যান। তন্নতন্ন করে খুঁজেও কোথাও হদিশ পায়নি পুলিশ। এরপর ওই বছরের ১৬ জুলাই আইআইএম রোডের পিছনে একটি নর্দমা থেকে একটি পচনধরা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু দেহে এতটাই পচন ধরে যায় যে মুখ দেখে শনাক্ত করা সম্ভব ছিল না। তবে মৃতদেহটির হাতে বাঁধা চুড়ি এবং একটি আংটি দেখে শিবানীর পরিবার শিবানীর দেহ বলেই শনাক্ত করে। এরপর ভৈঁসাকুণ্ডে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। শুধু তাই নয়, শিবানীর মৃত্যুর পিছনে শ্বশুরবাড়ির হাত আছে বলে অভিযোগও ওঠে।
এরপর শিবানীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে পণের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। অপহরণের ধারাও মামলায় যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু পরে ফরেনসিক পরীক্ষায় বড়সড় তথ্য সামনে আসে। ডিএনএ পরীক্ষায় উদ্ধার হওয়া দেহটির সঙ্গে শিবানীর ডিএনএ মেলেনি। অর্থাৎ, যে মহিলাকে শিবানী ভেবে দাহ করা হয়েছিল, তিনি আসলে শিবানী ছিলেন না। এরপর মামলায় পণ সংক্রান্ত ধারাগুলি বাদ দেওয়া হয়। এদিকে গত শনিবার, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৭ মাস পর শিবানী নিজেই তাঁর বাপের বাড়িতে ফিরে আসেন। তাঁকে জীবিত দেখে পরিবারের সদস্যরা কার্যত হতবাক হয়ে যান।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিবানী জানিয়েছেন, তিনি গত ২ বছর ধরে লখনউয়ের পারা এলাকায় অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে ছিলেন। ওই ব্যক্তির নাম জাভেদ বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি এলাকায় একটি পুরসভার শৌচাগারের দেখভাল করেন। শিবানীর সঙ্গে এলাকাতেই তাঁর পরিচয় হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের দাবি, জাভেদ তাঁকে একাধিকবার বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে শিবানী তখন বাড়ি ফেরেননি। তদন্তকারীদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ২৭ মাস ধরে শিবানী কোথায় ছিলেন, কেন তিনি বাড়ি ফেরেননি। নিজের ইচ্ছেয় শিবানী চলে গিয়েছিলেন নাকি কেউ তাঁকে জোর করেছিল, খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আরও প্রশ্ন উঠছে, নর্দমা থেকে উদ্ধার হওয়া দেহ আসলে কার? পুলিশ জানিয়েছে, শিবানীকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হবে। তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে গোটা ঘটনার তদন্ত নতুন করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।