• আধার কার্ড না থাকায় ভর্তি নেয়নি হাসপাতাল! বনগাঁয় গেটের বাইরেই মৃত্যু অসুস্থ বৃদ্ধার!
    প্রতিদিন | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • অসুস্থ বৃদ্ধাকে জরুরি বিভাগের চিকিৎসার পর ট্রিটমেন্ট সিট দিয়েছিল। বলা হয়েছিল ভর্তি হতে। অভিযোগ, আধার কার্ড সঙ্গে না থাকায় তৎক্ষণাৎ ভর্তি নেয়নি বনগাঁ মহকুমা হাসপাতাল। যার পরিণতি হল মর্মান্তিক। হাসপাতালে গেটের সামনে বসেই মৃত্যু হল বৃদ্ধার। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বনগাঁয়।

    জানা গিয়েছে মৃতার নাম রেনু মণ্ডল। তাঁর ছেলে, মেয়ে কেউ নেই। পেট্রাপোল থানার কালিয়ানী খেদাপাড়া এলাকার বাসিন্দা তিনি। বনগাঁ থানার কালপুরের বাসিন্দা দিদি সরস্বতী সরকারের সঙ্গে বুকে ব্যথা নিয়ে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন তিনি। সরস্বতী জানান, ইমারজেন্সিতে রেনুকে দেখার পর বলেছিল ভর্তি করতে। উপরে যাওয়ার পর আধার কার্ড চায় হাসপাতাল। অভিযোগ, আধার কার্ড সঙ্গে না থাকায় ওয়ার্ডে ভর্তি নেওয়া হয়নি বৃদ্ধাকে। এরপর অসুস্থ বৃদ্ধাকে নিয়ে তাঁর দিদি আধার কার্ড আনার জন্য হাসপাতাল থেকে বের হন। শরীর এতটাই খারাপ ছিল যে গেটের বাইরেই বসে পড়েন তিনি। সেখানেই অচৈতন্য হয়ে পড়েন রেনু। এরপর হাসপাতালের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

    এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, গুরুতর অসুস্থ রোগী কীভাবে হাসপাতাল থেকে বাইরে বেরল? কেন আধার কার্ডের জন্য পরিষেবা পেলেন না মুমূর্ষ রোগী? এ প্রসঙ্গে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক গৌরী মণ্ডল বলেন, বৃদ্ধাকে নিয়ে তার দিদি জরুরি বিভাগে আসার পরে চিকিৎসা করা হয়। এরপর টিটমেন্ট সিট হাতে দিয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য উপরে ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছিল। বলা হয়েছিল পরে আধার কার্ড দিয়ে টিকিট করার কথা। চিকিৎসক আরও বলেন, “আমরা যে কোনও ইমার্জেন্সি রোগীকে প্রথমে চিকিৎসা করি। পরে আধার কার্ড আনতে বলি। ওনাদেরও পরে আনতে বলা হয়েছিল। ওনারা কেন ওয়ার্ডে ভর্তি না করে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গেল সেটা আমরা জরুরি বিভাগে বসে বলতে পারব না।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)