• অনীত থাপার ইস্তফার পর বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের, প্রশাসক নিয়োগ জিটিএতে, কাটবে অচলাবস্থা?
    প্রতিদিন | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • দার্জিলিং পাহাড়ের গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে (জিটিএ) প্রশাসক নিয়োগ করল রাজ্য। তাৎপর্যপূর্ণভাবে আজ, মঙ্গলবারই উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার আগেই জিটিএ’তে প্রশাসক নিয়োগ করল সরকার। জিটিএ-র মুখ্যসচিব স্মৃতিরঞ্জন মোহান্তি প্রশাসক নিযুক্ত হয়েছেন। ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তর (হিল অ্যাফেয়ার্স) বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জিটিএ-র চিফ এক্সিকিউটিভ অনীত থাপা চলতি ১৭ জুন রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন। ২৪ জুন সেটি গ্রহণ করেন রাজ্যপাল। পাশাপাশি জিটিএ-র চেয়ারম্যান অঞ্জুল চৌহান এবং ডেপুটি চেয়ারম্যান রাজেশ চৌহান ইস্তফা দেন। সেটাও গ্রহণ করেন রাজ্যপাল। এরপরই জিটিএ-র প্রশাসক নিয়োগ করল রাজ্য। তাও আবার মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে। যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    জানা গিয়েছে, অনীত থাপা পদত্যাগের পর দু’মাসেরও বেশি সময় জিটিএ অভিভাবকহীন হয়ে পড়ায় পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়ন ও পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছিল। ওই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক কাজ স্বাভাবিক রাখতে রাজ্যপালের নির্দেশে জিটিএ-র মুখ্যসচিব স্মৃতিরঞ্জন মোহান্তিকে প্রশাসক পদে নিযুক্ত করা হয়। কার্যত রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের জোট সঙ্গী অনীত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার উপরেও রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকে। এক সময় পঞ্চায়েত থেকে পুরসভা, জিটিএ’র এককভাবে ক্ষমতায় থাকা গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা পালাবদলের পর পদত্যাগ করতে শুরু করেন। ওই পরিস্থিতিতে জিটিএ পরিচালনা রীতিমতো কঠিন হয়ে দাঁড়ায় অনীত থাপাদের। 

    শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন থেকে জিটিএ-র বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও আর্থিক তছরুপের অভিযোগে সরব ছিল বিজেপি এবং বিমল গুরুং। স্বভাবতই চাপ বাড়ছিল। দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তার অভিযোগ, জিটিএ দুর্নীতি ও আমলাতান্ত্রিক স্বেচ্ছাচারিতার আখড়া হয়ে উঠেছিল। পাহাড়বাসীর উন্নয়নের টাকা নয়ছয় হয়েছে এবং বিপুল অর্থের প্রকল্পগুলো কেবল ঠিকাদার ও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের স্বার্থে তৈরি করা হয়েছে। রাজ্য সরকার পাহাড়ে স্বচ্ছতা আনতে বিচারবিভাগীয় তদন্তের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেখানে দুর্নীতিগ্রস্তদের পার পাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। এমনকী জিটিএ নিয়ে এদিন উত্তরবঙ্গে দাঁড়িয়ে সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জিটিএ দুর্নীতিগ্রস্তদের কাউকে ছাড়া হবে না। এমনকী এফআইআর করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারও করা হবে। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)