বার্ধক্য, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার অপেক্ষারত তালিকা বাতিল করেছে রাজ্য সরকার। খতিয়ে দেখা হচ্ছে উপভোক্তাদের নথি। সেই যাচাই প্রক্রিয়ায় ভুয়ো উপভোক্তাদের তালিকায় প্রথম স্থানে উঠে এল সিউড়ি পুরসভা। ইতিমধ্যেই ৬,৮৭৮ জনকে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে সূত্র মারফত খবর। উঠে এসেছে বিস্ফোরক তথ্য। দেখা গিয়েছে, ১৫ শতাংশ অল্পবয়সি পুরুষরাও পাচ্ছিলেন বিধবা ভাতা। জানা গিয়েছে, যাচাই প্রক্রিয়া এখনও পর্যন্ত পুরো তালিকা যাচাই করা হয়নি। সংখ্যা এখনও বাড়তে পারে।
জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি-এর আওতায় সিউড়ি পুরসভায় বার্ধক্য, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা মিলিয়ে মোট ১৫,০৬৯ জন উপভোক্তা রয়েছেন। আরও ৩,৫৬৮ জনের ভেরিফিকেশন বাকি রয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত অযোগ্য উপভোক্তার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। পুরসভা সূত্রের প্রাথমিক হিসাব, যাচাই সম্পূর্ণ হলে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। অর্থাৎ মোট উপভোক্তার অর্ধেকেরও বেশি অযোগ্য বলে চিহ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কিন্তু কেন এত নাম অযোগ্য? সূত্রের দাবি, চিহ্নিত হওয়া অযোগ্যদের মধ্যে ৫০ শতাংশেরও বেশি উপভোক্তার বয়স বার্ধক্য ভাতা পাওয়ার নির্ধারিত ৬০ বছর হয়নি। আধার, ভোটার কার্ড ও প্যানের মতো একাধিক নথিতেও তাঁদের বয়স ৬০ বছরের কম বলে ধরা পড়েছে। এমনকী অযোগ্যদের মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ অল্পবয়সি পুরুষের নামেও বিধবা ভাতা পাওয়ার তথ্য মিলেছে বলে জানা গিয়েছে।
পুরসভা সূত্রের অনুমান, কোনও কোনও ক্ষেত্রে পরিবারের প্রবীণ সদস্যের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবর্তে অন্যের নামে ভাতার টাকা চালু হয়ে থাকতে পারে। তবে কীভাবে এই নামগুলি তালিকায় ঢুকল এবং কারা তা অনুমোদন করলেন, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। ঘটনায় যে সমস্ত সরকারি আধিকারিক বা পুরসভার প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিদের যোগাযোগের স্পষ্ট প্রমাণ মিলবে তাদের বিরুদ্ধে রাজ্যস্তর থেকে পদক্ষেপ করা হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, প্রকৃত যোগ্যরা যাতে ভাতা থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য নতুন করে তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণামতো দু’দিনের জনকল্যাণ শিবির আয়োজন করে সেখান থেকেই যোগ্য উপভোক্তাদের নতুন তালিকা তৈরি করা হবে। তবে কবে এই শিবির হবে, সেই বিষয়ে এখনও সরকারি নির্দেশিকা হাতে আসেনি।