২৪ ঘণ্টা নজরদারির আওতায়। কোনও মুহূর্ত নিজের মতো করে কাটানোর উপায় নেই। টাকা কোথায়, কী ভাবে খরচ করতে হবে তাও বেঁধে দিতেন শ্বশুরমশাই। কারাগারের বন্দির মতোই হাঁফিয়ে উঠেছিলেন ৩৬ বছরের পুত্রবধূ। এমন কড়া শাসনের বেড়া কাটতেই শ্বশুরকে একে বারে শেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সুপারি কিলার ভাড়া করার অভিযোগ উঠল বাড়ির বৌমার বিরুদ্ধে।
কানপুরে ওষুধ ব্যবসায়ী শ্বশুরকে খুনের ঘটনায় সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বাড়ির ভিতরে CCTV-তে নজরদারি, রাতে পার্টিতে যাওয়া নিয়ে আপত্তি এবং ব্যক্তিগত খরচের জন্যও শ্বশুরের কাছে টাকা চাইতে বাধ্য হওয়া— এই বিষয়গুলি নিয়েই নাকি ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল ৩৬ বছরের শালুর মনে। পুলিশের অভিযোগ, সেই ক্ষোভ থেকেই শ্বশুরকে খুনের জন্য প্রাক্তন পরিচারককে সুপারি দিয়েছিলেন তিনি।
পরিকল্পনা মতোই শ্বশুরের উপর হয় হামলা। ৫ সেপ্টেম্বর রাতে কানপুরের কল্যাণপুরের রতন অরবিট আবাসনে ৬৩ বছরের ওষুধ ব্যবসায়ী বিনীত মিনোচার উপর হামলা হয়। শরীরে ২৬টিরও বেশি ছুরির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। প্রাণঘাতী আঘাতে মৃত্যু হয় তাঁর। প্রথমে ডাকাতির সন্দেহ হলেও বাড়ি থেকে কোনও মূল্যবান জিনিস খোয়া না যাওয়ায় তদন্তের অভিমুখ বদলায়।
এর পরে তদন্তে CCTV ফুটেজে দুই ব্যক্তিকে ফ্ল্যাটে ঢুকতে দেখা যায়। তাঁদের মধ্যে একজন পরিবারের প্রাক্তন কর্মী বিশাল এবং অন্য জন রাজকিশোর বলে পুলিশ জানতে পারে। দু’জনকে গ্রেপ্তারের পরে বিশাল দাবি করে, শালুর নির্দেশেই বিনীত মিনোচাকে খুন করেছে তারা। এর পরেই বিনীত মিনোচার পুত্রবধূ শালুকে আটক করা হয়। তাঁর বক্তব্য ফোনের কল ডিটেল ও অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, শালুর অভিযোগ ছিল, বিপুল ব্যবসা থাকা সত্ত্বেও সংসারের আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ছিল শ্বশুরের হাতে। ছোটখাটো খরচের জন্যও তাঁকে টাকা চাইতে হতো। বাড়িতে লাগানো CCTV নিয়েও তাঁর আপত্তি ছিল। তাঁর দাবি, সারাদিন তাঁর গতিবিধিতে নজর রাখতেন শ্বশুর। ২৮ জুলাই রাতে পার্টি থেকে দেরি করে ফেরাকে কেন্দ্র করে শালুর সঙ্গে বিনীতের বচসা হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারীদের দাবি, এর পরেই খুনের পরিকল্পনা করা হয়। শালু বিশালকে টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। তাঁকে ফ্ল্যাটে ঢোকার জন্য ডুপ্লিকেট চাবিও দেওয়া হয়েছিল। শালু, তাঁর স্বামী সুব্রত এবং সন্তান পার্টিতে বেরিয়ে যাওয়ার পর বিশাল ও রাজকিশোর ফ্ল্যাটে ঢোকে। নিরাপত্তারক্ষী প্রথমে তাঁদের আটকালে শালুর সঙ্গে ফোনে কথা বলে তাঁদের ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়।
পুলিশের আরও দাবি, প্রথমে বিনীতকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে ঘটনাটি হার্ট অ্যাটাক বলে চালানোর পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তরা। কিন্তু ৬৩ বছরের বৃদ্ধ বাধা দেওয়ায় পরিস্থিতি বদলে গিয়ে ছুরি দিয়ে হামলা হয়। ঘটনায় শালুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর স্বামী সুব্রতের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।