মুম্বইয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান শুরুর ঠিক আগে সভাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র-সহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে একজন নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে VVIP জোন দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ। সেই সময়েই তাঁকে পাকড়াও করেন নিরাপত্তারক্ষীরা। তাঁর সঙ্গীর কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মুম্বইয়ে বান্দ্রা কুর্লায় গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্টে যোগ দেওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। তিনি সেখানে পৌঁছনোর আগে দুই যুবক VVIP জোন দিয়ে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। তাঁদের দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। দু’জনকে পাকড়াও করে শুরু হয় তল্লাশি। সেই সময়ে রোহন পারেখ নামে এক যুবক নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আধিকারিক বলে পরিচয় দেন।
পরিচয়পত্র দেখতে চান নিরাপত্তারক্ষীরা। তিনি আইডেন্টিটি কার্ড দেখান। কিন্তু সেটা ভুয়ো বলে সন্দেহ হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে থাকা যুবকটি নিজেকে বডিগার্ড বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। তাঁকে তল্লাশি করে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়। এর পরে তাঁকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মোদীর সভায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঢোকার চেষ্টার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ওই দুই যুবক কী ভাবে প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলে পৌঁছলেন সেই প্রশ্নও তুলছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। এর পিছনে বড় কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেই প্রাথমিক ভাবে মনে করছেন তদন্তকারীরা। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ।
তবে এ বারই প্রথম নয়। ২০১৩-য় মোদীকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণার পরেই পাটনায় ‘হুঙ্কার র্যালিতে’ তাঁকে হত্যার চেষ্টা হয়। সেই অনুষ্ঠানে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছিল গোটা দেশে। এর পরে ২০১৮-য় তাঁকে রাজীব গান্ধীর ধাঁচে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়েছিল বলে গোয়েন্দা রিপোর্ট থেকে জানা যায়। তবে সেই সময়ে কোনও হামলা হয়নি। ২০২২-এ পাঞ্জাবের ফিরোজপুরের ফ্লাইওভারে মোদীর কনভয় আটকে পড়া নিয়েও হইচই হয়েছিল বিস্তর।