• বিজয়ের ‘দুর্নীতি’ মন্তব্যে বিধানসভায় ধুন্ধুমার, মার্শাল ডেকে ডিএমকে বিধায়কদের বের করে দিলেন স্পিকার
    এই সময় | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • শাসক-বিরোধী তরজায় সরগরম তামিলনাড়ু বিধানসভা। ডিএমকে ক্ষমতায় থাকাকালীন ঘুষ ছাড়া কোনও সরকারি প্রকল্পের বরাত মিলত না বলে সোমবার অভিযোগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। সেই বক্তব্যের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশন শুরু হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিরোধীরা। অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছয় যে শেষ পর্যন্ত ডিএমকে বিধায়কদের বিধানসভা থেকে বের করে দিলেন স্পিকার জেসিডি প্রভাকর।

    ইডি রিপোর্টকে ঢাল করে তৎকালীন ডিএমকে সরকারকে তীব্র কটাক্ষে বিঁধেছিলেন বিজয়। সরাসরি বলেছিলেন, ‘পার্টি ফান্ডে ৭ থেকে ১০ শতাংশ চাঁদা না দিলে কোনও সরকারি প্রকল্পের বরাত পেতেন না কনট্রাক্টররা।’ এমনকী প্রয়াত নেতা মুরাসোলি মারানের নামও নিয়েছিলেন তিনি। এ দিন অধিবেশনের শুরুতেই বিজয়ের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন ডিএমকে-র পরিষদীয় দলের মুখ্যসচেতক ইভি ভেলু। সভার কার্যবিবরণী থেকে বিজয়ের মন্তব্য বাদ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

    কিন্তু ডিএমকে-র অনুরোধ খারিজ করে দেন স্পিকার জেসিডি প্রভাকর। মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিধানসভা। স্পিকারের পোডিয়ামের সামনে বসে স্লোগান দিতে শুরু করেন ডিএমকে বিধায়করা। প্রভাকর তাঁদের আসনে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও তাঁরা শোনেননি। বিক্ষোভের মধ্যেই স্পিকারের কাছে বিরোধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের দাবি জানান টিভিকে বিধায়ক কেএ সেনগোট্টাইয়ান। তিনি বলেন, ‘স্পিকারের সিদ্ধান্তের পরেও ডিএমকে বিধায়করা হইচই করছেন। তাই তাঁদের বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি।’

    এই পরিস্থিতিতে ডিএমকে বিধায়কদের এক মিনিট সময় দেন স্পিকার। সাফ জানিয়ে দেন, এর মধ্যে নিজেদের আসনে ফিরে না গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। কিন্তু সেই নির্দেশের পরেও সরেননি কেউ। এর পরেই মার্শাল ডেকে ডিএমকে বিধায়কদের টেনেহিঁচড়ে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।

    উল্লেখ্য, সোমবার দুর্নীতির পাশাপাশি ডিএমকে-র বিরুদ্ধে মহিলাদের অবমাননার অভিযোগও করেছিলেন বিজয়। তিনি বলেছিলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে মহিলাদের সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্য থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করছি।’ সম্প্রতি অভিনেত্রী তৃষা সম্পর্কে আপত্তিজনক মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছিল তামিলনাড়ু বিধানসভার বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্ট্যালিনের বিরুদ্ধে। তাঁকে নিশানা করেই বিজয় এই মন্তব্য করেছিলেন বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।

    বিধানসভায় বিতর্কের সূত্রপাত কী নিয়ে?

    ডিএমকে ক্ষমতায় থাকাকালীন সরকারি প্রকল্পের বরাত পেতে ঠিকাদারদের ৭–১০ শতাংশ ‘পার্টি ফান্ড’ দিতে হত বলে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত।

    বিজয়ের মন্তব্য নিয়ে ডিএমকে কী দাবি জানিয়েছিল?

    বিজয়ের বক্তব্য বিধানসভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল ডিএমকে।

    স্পিকার কী সিদ্ধান্ত নেন?

    স্পিকার জেসিডি প্রভাকর ডিএমকের দাবি খারিজ করে দেন এবং বিজয়ের বক্তব্য বাদ দেননি।

    এরপর কী ঘটেছিল?

    ডিএমকে বিধায়করা স্পিকারের পোডিয়ামের সামনে গিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন। তাঁদের আসনে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন স্পিকার।

    কেন ডিএমকে বিধায়কদের বের করে দেওয়া হয়?

    স্পিকারের নির্দেশের পরেও তাঁরা আসনে ফিরে না যাওয়ায় এক মিনিট সময় দেওয়া হয়। এরপরও বিক্ষোভ চলতে থাকায় মার্শাল ডেকে তাঁদের অধিবেশন কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।

    বিজয় আর কী অভিযোগ করেছিলেন?

    দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণে মহিলাদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য না করার আহ্বানও জানিয়েছিলেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)