• নামী আইটি কোম্পানির চাকরি ছেড়ে সাইবার জালিয়াতি, চন্দননগরে ধৃত ১২
    এই সময় | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নামী আইটি কোম্পানির চাকরি ছেড়ে সাইবার প্রতারণায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠল হুগলির উত্তরপাড়ার এক যুবকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার তাঁকে গ্রেপ্তার করলেন চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার অপরাধ দমন শাখার গোয়েন্দারা। একই সঙ্গে আরও ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, গোটা দেশেই প্রতারণার জাল ছড়িয়ে রেখেছিল অভিযুক্তরা।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপাড়ার ওই যুবক বড় কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন। তার পরে যোগ দেন নাম করা আইটি সংস্থায়। অর্থের অভাব ছিল না কোনও। কিন্তু সব ছেড়ে প্রতারণা চক্রে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। তদন্তের স্বার্থে ওই যুবক এবং বাকিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে তাঁদের কাছ থেকে একাধিক ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, প্যান কার্ড, চেকবই, ব্যাঙ্কের পাশবই উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তিনটি মোবাইল ফোন এবং সাতটি সিম কার্ড।

    ধৃতরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাইবার প্রতারণার জাল ছড়িয়ে রেখেছিল বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের। প্রতারণার একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পরেই তদন্তে নামে চন্দননগর পুলিশের সাইবার থানা। একে একে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাঁদের পাকড়াও করে পুলিশ।

    চন্দননগর পুলিশের ডিসি (ডিডি) রূপান্তর সেনগুপ্ত বলেন, ‘ধৃতরা বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। তদন্তের স্বার্থে এখনই তাঁদের নাম-পরিচয় সামনে আনছি না আমরা। ধৃতদের কয়েক জন পূর্ব পরিচিত। তবে অপরাধের কৌশল প্রায় এক।’

    পুলিশের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেজে লিঙ্ক পাঠিয়ে কিংবা সাহায্য করার ছুতোয় সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলত অভিযুক্তরা। অনেকটা জামতাড়া গ্যাংয়ের কায়দায়। এই চক্রের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি যুক্ত থাকতে পারে বলে অনুমান পুলিশের। এখনও পর্যন্ত ঠিক কত জনের কাছ থেকে কত টাকা প্রতারণা করা হয়েছে, তার স্পষ্ট হিসাব মেলেনি। তবে তদন্তে আরও তথ্য উঠে আসতে পারে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা।

    কত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে?

    উত্তরপাড়ার যুবক-সহ মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে চন্দননগর পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন শাখা।

    উত্তরপাড়ার যুবকটি কী করতেন?

    ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পর তিনি একটি নামী আইটি সংস্থায় চাকরি করতেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

    কী ভাবে প্রতারণা করত অভিযুক্তরা?

    হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেজে লিঙ্ক পাঠিয়ে অথবা সাহায্য করার অছিলায় সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলত বলে অভিযোগ।

    ধৃতদের কাছ থেকে কী উদ্ধার হয়েছে?

    একাধিক ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, প্যান কার্ড, চেকবই, ব্যাঙ্কের পাশবই, তিনটি মোবাইল ফোন এবং সাতটি সিম কার্ড উদ্ধার হয়েছে।

    এই চক্রে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি?

    দেশজুড়ে নেটওয়ার্ক থাকায় আরও অনেকে এই চক্রে যুক্ত থাকতে পারে বলে পুলিশের অনুমান। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)