পশ্চিমবঙ্গে এসে মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বরধামের পীঠাধ্যক্ষ ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী দুর্গাপুজোয় আমিষ না-খাওয়ার পক্ষে যে সওয়াল করেছেন, তা নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। তা নিয়ে আগেই মুখ খুলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রারও মত, বাঙালির দুর্গাপুজো আর নবরাত্রি একই বিষয় নয়। তাই পুজোয় বাঙালি কী করবে, কী খাবে, কী পরবে, কখন বাড়ি ফিরবে , সেটা অন্য কেউ বলে দেবেন না।
দুর্গাপুজোয় আমিষ না-খাওয়া পরামর্শ নিয়ে নিয়ে বিজেপির অবস্থান সোমবারই জানিয়েছিলেন শমীক। বলেছিলেন, ‘আমরা সাধারণত নবমীর দিন পাঁঠার মাংস খাই। অষ্টমীর দিন লুচি খাই। সেটাই খাব। খাওয়াদাওয়া নিয়ে বাংলার মানুষকে কিছু বলার নেই। যার যা খেতে ইচ্ছে করবে খাবেন। বাঙালি মাছ-মাংস খাবে না, এটা হয় নাকি! তিনি কী বললেন, সেটা তার ব্যক্তিগত বক্তব্য। আবেদন তিনি করতেই পারেন। কোনও সাধুর কথায় কে কী খাবে, সেটা বন্ধ করে করে দেওয়া হবে না।’
অগ্নিমিত্রা শমীকের কথাকেই সমর্থন করেছেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমার মাননীয় রাজ্য সভাপতি বলে দিয়েছেন যে, কেউ বাইরে থেকে এসে তো বুঝবে না যে, এখানে আমাদের বাঙালিদের কী বিষয়। অন্য রাজ্যে এই দুর্গাপুজোর সময় এই দশ দিন যে পুজো হয়, সেখানে অন্য রাজ্যের সবাই মিলে নিরামিষ খায়। এখন তিনি যদি মনে করে থাকেন যে, এখানেও সেই কালচার, তা তো ঠিক নয়। আমরা সারা বছর টাকাপয়সা জমাই পুজোর চার দিন রেস্টুরেন্টে গিয়ে কব্জি ডুবিয়ে মাংস খাব বলে। ইলিশ মাছ খাব বলে। সুতরাং রাজ্যে রাজ্যে কালচারটা আলাদা।’
ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ সম্পর্কে মন্ত্রীর বক্তব্য, ‘উনি ওঁর মতো করে বলেছেন, যেটা উনি জানেন। উনি জানেন না যে, এখানে কালচারটা ওইটা নয়। সুতরাং আমার রাজ্য সভাপতি বলে দিয়েছেন আর আমিও বার বার বলেছি, আমরা কী খাব, কী পোশাক পরব, কখন বেরব, কখন বাড়ি ঢুকব, এটা কেউ বলে দেবে না। যারা রাজনীতি করছেন, রাজনীতি করবেন না। রাজনীতির আগুনে আবার রুটি সেঁকবেন না। মাননীয় রাজ্য সভাপতি খুব ক্লিয়ারলি বলেছেন। এর থেকে ক্লিয়ারলি আর বলা যায় না। যা বলার বলে দিয়েছেন।’
প্রসঙ্গত, রবিবার হাওড়ার লিলুয়ায় ‘হনুমান কথা’র আসরে গিয়েছিলেন বাগেশ্বরধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ। সেখানে তিনি বলেন, ‘এখানে নবরাত্রির সময়ে দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলের পিছনে আমিষ খাবার খাওয়া হয়। খারাপ-খারাপ খাবার পিছনে বানানো হয়। এটা আমার অপছন্দ। এই বারে নবরাত্রির সময়ে কলকাতার হিন্দুরা জেগে উঠে এই ধরনের লোকজনকে বহিষ্কার করুন!’ তাঁর সংযোজন, ‘পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের কাছে প্রার্থনা, নবরাত্রিতে দেবীর প্রতিমা থাকুক বা না-থাকুক, কিন্তু প্রতিমার পাশে আমিষ বিক্রি চলবে না।’ ঘটনাচক্রে, এর কিছু দিন আগে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)-ও দুর্গাপুজো সংক্রান্ত একগুচ্ছ নির্দেশিকা দিয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, পুজোমণ্ডপের ভিতরে সাত্ত্বিক আচার মেনে নিরামিষ ভোগ দিতে হবে। সেখানে আমিষ খাদ্যদ্রব্যের প্রবেশ নিষেধ। তবে মণ্ডপের বাইরে আমিষ খাবারের স্টল দেওয়া যাবে।