পাহাড়ের উন্নয়নে একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, জিটিএ-র দুর্নীতিতে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জিটিএ-তে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ফের কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না। অভিযোগের তদন্ত হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হবে। প্রয়োজন হলে গ্রেপ্তারিও করা হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতির মাধ্যমে লুট হওয়া টাকা ফেরত আনার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।
সোমবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তাঁর হেলিকপ্টারে কালিম্পঙে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পাহাড়ি এলাকায় ঘন কুয়াশা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে হেলকপ্টার অবতরণ করতে পারেনি। বেশ কিছুক্ষণ আকাশে চক্কর কাটার পর কপ্টারটি শিলিগুড়ি ফিরে আসে। পরে উত্তরকন্যা থেকেই প্রশাসনিক বৈঠক করেন। মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।
বৈঠকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ে ধস, তিস্তা নদীর অবস্থা এবং মালদহের বন্যা নিয়েও আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।
জিটিএ-তে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে এ দিন আরও একবার সরব হন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে জিটিএ-র বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। তাঁর দাবি, ১১টি বোর্ডের অর্থ নয়ছয় করা হয়েছে। পাহাড়ে পানীয় জল প্রকল্প থেকে শিক্ষক নিয়োগ-একাধিক ক্ষেত্রে দুর্নীতি অভিযোগ রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই সমস্ত অভিযোগের তদন্ত করা হবে। দুর্নীতির প্রমাণ মিললে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের এবং গ্রেপ্তারির মতো পদক্ষেপ করা হবে। পাশাপাশি যে অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে বলে অভিযোগ, তা উদ্ধার করারও চেষ্টা করা হবে।
পাহাড়ের উন্নয়ন নিয়েও এ দিন একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, জিটিএ-র বাজেট দ্বিগুণ করা হয়েছে এবং পাহাড়ের সামগ্রিক উন্নয়নই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। কালিম্পঙে একটি মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলার কথাও তিনি জানান। এর জন্য ভূমিপুজো খুব তাড়াতাড়ি করা হবে বলেও বৈঠক বলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়বাসীদের সাহায্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি (Suvendu Adhikari)। গত বছর পুজোর সময় পাহাড়ে দুর্যোগের জেরে মিরিকে একাধিক বাড়ি ধসে পড়েছিল এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। সেই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭৪টি পরিবারকে ৩ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও পাহাড়বাসীদের জন্য একাধিক উদ্যোগ নেওয়ার কথাও এদিন জানান। সকলকে আয়ুষ্মান কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১২৩ জন রোগী ওই কার্ড ব্যবহার করে চিকিৎসা পেয়েছেন বলে জানানো হয়। যাঁরা আয়ুষ্মান কার্ডের সুবিধা পাবেন না, তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার আওতায় আনা হবে।
এছাড়াও পাহাড়ের প্রায় ১৫ হাজার মহিলা ইতিমধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেয়েছেন। আগামী দিনে আরও বেশি মহিলাকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।
চা শ্রমিকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি বছরে চা শ্রমিকদের ২০ শতাংশ পুজো বোনাস দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে থাকা চা বাগানগুলি পুনরায় চালু করার জন্য সরকার উদ্যোগ নেবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।