ভারতের মাটিতে ছুটবে বুলেট ট্রেন। ২০১৭ সালে যে স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেখিয়েছিলেন, সেই স্বপ্ন এবার সত্যি হওয়ার মুখে। সব ঠিক থাকলে আগামী বছরই আহমেদাবাদ-মুম্বই রুটে ছুটবে দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, সব ঠিক থাকলে আগামী বছর আগস্ট-সেপ্টেম্বরেই দেশের মাটিতে প্রথম বুলেট ট্রেন ছুটবে।
অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে ট্রেনের কাঠামো তৈরির কাজ দু’দিন আগেই শেষ হয়েছে। এ বার স্কুইজ টেস্ট হবে। যার মাধ্যমে ট্রেনের বগির কাঠামোর শক্তি যাচাই হবে। ঠিক কতটা লোড নিতে পারবে ওই কামরাগুলি, সেটা খতিয়ে দেখা হবে। আহমেদাবাদ-মুম্বই রুটে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ট্রেন ছুটবে। তবে প্রথমেই পুরো রাস্তা ট্রেন চালানো যাবে না। প্রথম দফায় ৫০ কিলোমিটার ট্রেন চলবে। গুজরাটের সুরাট থেকে বিলিমোরা পর্যন্ত ট্রেন চালানো হবে। রেলমন্ত্রী আশাবাদী, আগামী বছর মে মাসেই বুলেট ট্রেন পরীক্ষামূলকভাবে দৌড়বে। তাঁর কথায়, “আগামী বছর মে-জুন মাসে পরীক্ষামূলকভাবে ট্র্যাকে ছুটবে বুলেট ট্রেন। দুই থেকে চার মাস পরীক্ষামূলক যাত্রার পর প্রধানমন্ত্রী বুলেট ট্রেনটির উদ্বোধন করবেন।’’
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে মুম্বই-আহমেদাবাদ ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ পথে দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন চালানোর স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালে। আর এই বিলম্বের কারণে প্রকল্পের খরচ ১.৬ লক্ষ কোটি টাকা পার করে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এতটা দেরি হওয়ার মূল কারণ, আহমেদাবাদ থেকে মুম্বই হাই-স্পিড ট্রেন প্রকল্পে দেরি হওয়ার প্রধান কারণ জমি অধিগ্রহণে সমস্যা এবং মাঝে দু’বছর করোনা অতিমারীর জন্য কাজ বন্ধ হয়ে থাকা।
পুরো লাইনের কাজ শেষ হওয়ার পর মুম্বই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেনটি ৫০৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে। থামবে ১২টি স্টেশনে। এর মধ্যে ৯টি স্টেশন গুজরাটে। ৩টি মহারাষ্ট্রে। মুম্বই স্ট্রেশনটি তৈরি হবে মাটির তলায়। বাকি গুলি উপরে। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করা হবে উন্নত প্রযুক্তি। জাপানি শিনকানসেন প্রযুক্তিতে চালানো হবে এই ট্রেনটি। তবে ট্রেনটি তৈরি হয়েছে পুরোপুরি এদেশে এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে।