৫ মাসে ২৩ ফাঁসির নির্দেশ, খুনের হুমকির মুখে সেই বিচারক বললেন, ‘ভয় পাওয়ার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো’
প্রতিদিন | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মাত্র ৫ মাসের ব্যবধান। ১১টি আলাদা আলাদা মামলায় ২৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন তিনি। কোনও মামলায় একটু নৃশংসতা দেখলে, মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিন্দুমাত্র সংস্থান থাকলেই তিনি সোজা সর্বোচ্চ সাজার নিদান দেন। উত্তরপ্রদেশের সেই বিতর্কিত বিচারক এখন খুনের হুমকি পাচ্ছেন। মাফিয়ারা তাঁর পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে। তবে সেসব হুমকির মুখেও অনড় রবিকুমার দিবাকর। তিনি সাফ বলে দিচ্ছেন, ‘ভীতু বলে চিহ্নিত হওয়ার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।’
২০২২ সালে জ্ঞানবাপী মন্দির চত্বরের ভিডিওগ্রাফি সার্ভের নির্দেশ দিয়ে প্রথমবার শিরোনামে আসেন রবি কুমার দিবাকর। পরে উচ্চ আদালতে সেই রায় স্থগিত হয়ে যায়। গত বছরের নভেম্বর থেকে তিনি মুজফফরনগরের অতিরিক্ত জেলা এবং দায়রা আদালতের বিচারক হিসেবে কর্মরত। রবি কুমার দিবাকরের নামের পাশে বি কম এবং এলএলএমের ডিগ্রি রয়েছে। তাঁর পরিচিত তৈরি হয়েছে মূলত কড়া মনোভাবের জন্য।
চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত এই চার মাসে ১০টি মামলায় ২২ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বিচারক রবি কুমার দিবাকর। তাঁর রায়ের তালিকায় রয়েছে আইনজীবী খুন, হোমগার্ড খুনের মতো মামলা। সম্ভবত এই কড়া মেজাজের ‘শাস্তি’ হিসাবে তাঁর এজলাস থেকে ১০০টি মামলা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে দমছেন না দিবাকর। সোমবার ফের অন্য এক মামলায় আরেকজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন তিনি। পণের জন্য স্ত্রীকে পুড়িয়ে মেরেছিলেন এক যুবক। সোমবার তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন দিবাকর। গত পাঁচ মাসে এই নিয়ে ২৩তম।
এরপরই দিবাকর বলেন, “মা-বাবা আমাকে শুধু ঈশ্বরকে ভয় পেতে শিখিয়েছেন। অন্য কাউকে নয়। আমার কাপুরুষ বিচারক বলার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।” তাঁর অভিযোগ, এজলাস থেকে ১০০ মামলা সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে শুধু মাফিয়াদের বাঁচানোর জন্য। তাঁকে প্রতিনিয়ত হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি দমবেন না। তিনি ‘সাহসী’ বিচারক হিসাবে পরিচিত হতে চান।