• ‘নোটিস যাবে, পরে বুলডোজার চলবে’, বেআইনি নির্মাণ রুখতে হুঁশিয়ারি দিলীপের
    প্রতিদিন | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • গাছ কেটে, সরকারি জমি দখল করে কিংবা নদী-খাল ভরাট করে নির্মাণ? আগে নোটিস যাবে। তাতেও কাজ না থামলে বুলডোজার। এমনই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। আজ, মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুরের সূর্যপুরে রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশন মুখ ও বধির বালিকা বিদ্যালয় ও হোমে গিয়েছিলেন মন্ত্রী। গাছের চারা রোপন করে রাজ্য সরকারের একদিনের বৃক্ষরোপণ অভিযানের সূচনা করেন তিনি।

    তৃণমূল আমলে সরকারি খাসজমি দখল করে বেআইনি নির্মাণের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। বিজেপি সরকারের আমলে বহু জায়গায় সরকারি জমি দখলমুক্ত হয়েছে। বেআইনি নির্মাণ কিছুতেই চলবে না, সরকারের তরফে বরাবর বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেই ইস্যুতেই এবার কড়া বার্তা দিলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, “যারা বেআইনিভাবে গাছ কাটছিল, সরকারি জমি দখল করছিল, নালা-খাল বন্ধ করে দিচ্ছিল, নদী ভরাট করে বিল্ডিং বানিয়ে দিচ্ছিল, তাদের সবাইকে নোটিস দেওয়া হবে। পরে বুলডোজার চলবে, কেউ বাঁচাতে পারবে না।” শুধু জমি দখল বা জলাশয় ভরাট নয়, প্রয়োজনীয় অনুমতি কিংবা ফায়ারের লাইসেন্স না থাকা নির্মাণের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। কয়েকটি ক্ষেত্রে পদক্ষেপ শুরু হয়েছে, বাকিগুলিতেও তা করা হবে বলে দাবি তাঁর।

    পরিবেশ রক্ষার এই বার্তার সঙ্গেই এদিন রাজ্যজুড়ে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে ৪০ হাজার গ্রামে ৪০ লক্ষ গাছ লাগানো হবে। প্রতি গ্রামে ১০০টি করে গাছের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, হস্টেল, বিশ্ববিদ্যালয় ও আশ্রম-সহ ৪৩৪টি প্রতিষ্ঠানেও লাগবে প্রায় ৪,৫০০ গাছ। এই কাজ শুধু গাছ লাগিয়েই শেষ হবে না। জি-রাম-জি প্রকল্পের শ্রমিকদের দিয়ে গাছ লাগানো, ঘিরে দেওয়া ও দেখভাল করা হবে। দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরিতে এতে কয়েক লক্ষ কর্মদিবস তৈরি হবে বলে জানান দিলীপ। প্রকৃতির ভারসাম্য ফেরানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও এদিন বলেন দিলীপ। পাশাপাশি জঙ্গলমহলে হাতির উপদ্রব ঠেকাতে হাতি চলাচলকারী গ্রামের পাশে পাঁচ ফুট গভীর ও চওড়া ট্রেঞ্চ তৈরির প্রস্তাবও রয়েছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)