দামি মোবাইল, মোটরবাইক কেনার শখ। কিন্তু টাকা জোগাড় করার উপায় নেই। এদিকে বাড়িতেও বলার উপায় নেই। সেজন্য আত্মীয়ের সোনার গয়না হাতানোই সহজ মনে হয়েছিল। পরিকল্পনামতো সেই গয়না হাতিয়ে বিক্রিও করে দেয়। শেষপর্যন্ত পুলিশের হাতে পাকড়াও হল ওই নাবালক। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর এলাকায়। ওই নাবালকের বয়স ১৬ বছর।
জানা গিয়েছে, চুরির ঘটনাটি ঘটেছে গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে। অশোকনগরের গুমা চৌমাথা সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা সায়ন বলের বাড়িতে চুরি হয়েছিল। ঘরের আলমারি থেকে বেশ কিছু সোনার চুরি যায় বলে অভিযোগ। ওই নাবালক সায়নের আত্মীয় হয়। ওই আত্মীয়তার সূত্রেই প্রায় নিয়মিত ওই বাড়িতে কিশোরের যাতায়াত ছিল। চুরির অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ।
গয়না উধাওয়ের সঙ্গে ওই কিশোর জড়িত থাকতে পারে, এমন আশঙ্কা করছিল পরিবার। পুলিশের কাছে সেই কথা জানানোও হয়। তদন্তকারীরা ওই কিশোরকে জেরা শুরু করে। কিছু সময়ের মধ্যেই সত্য কথা বলে দেয় কিশোর। পুলিশি জেরায় স্বীকার করে সকলের অজ্ঞাতে আলমারি থেকে সে নিজেই সোনা ও রুপোর গয়না হাতিয়েছিল। শুধু তাই নয়, চুরির মাল এক গয়না ব্যবসায়ীকে বিক্রি করে মোটা টাকাও নিয়েছিল কিশোর।
জানা গিয়েছে, ওই বাড়িতে নিত্য যাতায়াতের জন্য গয়না কোথায় থাকে, সেই বিষয়টি আগে থেকেই জানত। বাইক, মোবাইল কেনার জন্য টাকার দরকার হওয়ায় চুরির ফন্দি আঁটে সে। সুযোগ বুঝে গয়না হাতিয়ে সটকেও যায়। পুলিশ জেরায় জামতে পারে, চুরির গয়না বিজপুরের সোনার ব্যবসায়ী গোপাল দাসের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। সেই সূত্র ধরেই ওই ব্যবসায়ীর দোকানে হানা দেয় পুলিশ। তল্লাশি চালিয়ে ১৮ গ্রাম সোনা ও ১১৩ গ্রাম রুপোর গয়না উদ্ধার হয়। চোরাই মাল কেনার অভিযোগে ওই ব্যবসায়ীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নাবালককে জুভেনাইল আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। কিশোরের এই ব্যবহারে হতবাক পরিবারের লোকজন, আত্মীয়রা। ওই ব্যবসায়ীকে বারাসত আদালতে তোলা হলে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।