• বিপদসীমার উপরে গঙ্গা, ভূতনিতে জল ঢুকেছে থানা-স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও! তলিয়ে মৃত্যু কৃষকের
    প্রতিদিন | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ভয়াবহ গঙ্গা। জলে ডুবেছে ভূতনি, মহানন্দটোলা থানা। নিরুপায় হয়ে নৌকায় ভেসে নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ। জলে ভেসেছে ভূতনি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। রোগীদের সরানো হয়েছে অন্যত্র। জল ঢুকেছে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে। আজ, মঙ্গলবার গঙ্গার জলে ভেসে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে মৃতের নাম দ্বিজেন মণ্ডল। তিনি মালদহের ভূতনি থানার দক্ষিণ চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাল্লিটোলা গ্রামের বসিন্দা।

    পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলাশাসক, সহকারি জেলাশাসক, মন্ত্রী, বিধায়ক ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল নিয়ে হাই পাওয়ার কমিটি গঠন করেছে রাজ্য। ওই কমিটি নদীর পাড় থেকে বানভাসিদের সরিয়ে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে। যে স্কুলগুলো বন্ধ, সেগুলোতে অনলাইনে ক্লাস শুরু করা যায় কিনা চিন্তাভাবনা চলছে। বন্যা কবলিত এলাকায় গর্ভবতী মহিলা থাকলে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভূতনি ও রতুয়াকে গঙ্গার ভাঙনের হাত থেকে বাঁচাতে পাটনা ও কানপুর আইআইটি-র সাহায্য নিতে চলেছে রাজ্য। ব্যবহার করা হতে পারে অত্যাধুনিক ‘আর্টিকুলেটেড কংক্রিট ব্লক ম্যাট্রেস প্রযুক্তি’ (এসিবিএম) প্রযুক্তি।

    বানভাসিদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ভূতনি থানার কার্তিকটোলা, পুলিনটোলা, গিরিধারীটোলা, কেশরপুর, কালুটনটোলা, বসন্তটোলা এলাকায় হুহু করে গঙ্গার জল ঢুকছে। অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। চাষের জমি, রাস্তা জলে তলিয়েছে। মানিকচক থেকে ভূতনির সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন। ভূতনি সেতু পেরিয়ে এক কিলোমিটার মতো যাওয়ার পরে রাস্তা গঙ্গার জলে ভেসেছে। প্রশাসনের তরফে স্থানীয়দের জন্য ছোট নৌকা দেওয়া হয়েছে যাতায়াতের জন্য। সেচ দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী জুয়েল মুর্মু এবং মানিকচকের বিধায়ক বন্যা পরিস্থিতির উপরে নজরদারি চালাচ্ছেন। মালদহের জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর ইতিমধ্যে ভূতনির বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে নবান্নে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন।

    গত দু’বছরের মতো এবারও গঙ্গার জলে তলিয়েছে ভূতনি থানা। থানার পাশাপাশি আশপাশের এলাকাও জলমগ্ন। জলবন্দি ভূতনিতে নৌকায় চেপে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশকর্মীরা। পরিস্থিতি খতিয়ে প্লাবিত এলাকায় যান সেচ দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রশাসনের তরফে জলবন্দি মানুষজনকে উঁচু জায়গা, আশ্রয় শিবির ও স্কুলে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দুর্গতদের দেওয়া হচ্ছে ত্রাণসামগ্রী ও পানীয় জল। ইতিমধ্যে চরম বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে বইছে গঙ্গা। কেশরপুরের বাঁধ ভেঙে জলমগ্ন প্রায় ৩০টিরও বেশি গ্রাম। যার মধ্যে দুর্লভোলা, ভুবনটোলা, কেদারটোলা, মানিকনগর-সহ বেশ কয়েকটি গ্রাম গভীর জলে তলিয়েছে। সেখানে বানভাসি ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ।

    এদিকে রতুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা জলে ভেসেছে। কাটাহা দিয়ারায় একমাত্র স্বাস্থ্যকেন্দ্র মহানন্দটোলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র জলে তলিয়েছে। জল ঢুকেছে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে। জলবন্দি রতুয়ার চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮০ হাজার মানুষ। রাস্তার উপর দিয়ে বইছে বন্যার জল। এদিন পাটের স্তূপ বন্যার জল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন ভূতনি থানার দক্ষিণ চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাল্লিটোলা গ্রামে দ্বিজেন মন্ডল। বন্যার জলে তিনি ভেসে যান। পরে গ্রামবাসীরা তাঁর দেহ উদ্ধার করে।

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা থেকে ভূতনিতে পৌঁছেছে রিভার রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং সেন্ট্রাল ডিজাইনিং অফিসের ইঞ্জিনিয়াররা। ভুতনি ও রতুয়াকে গঙ্গার ভাঙনের হাত থেকে বাঁচাতে আর্টিকুলেটেড কংক্রিট ব্লক ম্যাট্রেস প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা ভাবছে রাজ্য। এটি উন্নত হার্ড-আর্মার ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবস্থা। নদীর তীর ও বাঁধকে স্রোতের প্রবল ধাক্কা থেকে সুরক্ষিত রাখতে বিশেষভাবে কার্যকর বলে জানা গিয়েছে। এজন্য পাটনা ও কানপুরের আইআইটি কলেজের বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের সাহায্য নেওয়া হবে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)