হুমায়ুনের গড়ে অশান্তির আশঙ্কা! রেজিনগরে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী চায় সিইও দপ্তর, নন্দীগ্রামে কত?
প্রতিদিন | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচনে দুই কেন্দ্রের জন্য ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী চাইল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। এর মধ্যে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরে ৩৬ কোম্পানি এবং নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের জন্য ৩৫ কোম্পানি বাহিনী চেয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে চেয়ে পাঠিয়েছে সিইও দপ্তর। তবে আগে থেকেই মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর পুলিশ জেলায় যে ৮ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন রয়েছে তা এই উপনির্বাচনের কাজে যুক্ত করা যাবে না। মঙ্গলবার আধিকারিক সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নীলম মীনা।
প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী নন্দীগ্রামে ২৮৬ ও রেজিনগরের ২৮২ টি বুথ রয়েছে। ভোটারের সংখ্যার নিরিখে এর সঙ্গে যুক্ত হবে সাহায্যকারী বুথও। তবে আসন্ন দুই উপনির্বাচনে অ্যাডজুডিকেশন ও ট্রাইব্যুনালে থাকা ভোটাররা যে ভোটাধিকার পাবেন না তা একপ্রকার নিশ্চিত করেছে সিইও দপ্তর।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হতেই রাজ্যের সিইও দপ্তরে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ততা তুঙ্গে। এদিন বিকেলে পূর্ব মেদিনীপুর ও মুর্শিদাবাদ দুই জেলার জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন সিইও নীলম মিনা-সহ দপ্তরের সমস্ত উচ্চ পদাধিকারীরা। সংশ্লিস্ট দুই জেলায় নির্বাচন পরিচালনার পরিস্থিতি কী? ভোটকেন্দ্র গুলির অবস্থা কেমন? ১০০ শতাংশ বুথে ওয়েব কাস্টিং করার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা আছে কি না? সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন? নির্বাচন হতে চলা দুই বিধানসভায় কতগুলি সংবেদনশীল এলাকা রয়েছে এবং তার জন্য কী ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন তা নিয়ে আলোচনা হয় এই বৈঠকে।
উল্লেখ্য, ছাব্বিশের ভোটে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর – দুটি কেন্দ্রেই জয়ী হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিয়ম মেনে একটি আসন ছাড়তে হতো তাঁকে। নিজের গড় নন্দীগ্রামের আসনটি ছেড়ে দেন শুভেন্দু। ফলে ওই কেন্দ্র বিধায়কশূন্য হয়ে পড়ে। তাই উপনির্বাচনের মাধ্যমে নতুন জনপ্রতিনিধি বেছে নেবেন নন্দীগ্রামবাসী। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও নওদা – জোড়া কেন্দ্রে জেতেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। তিনিও নিয়ম মেনে রেজিনগর কেন্দ্রটি ছেড়ে দেন। এবার এই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। ৯ অক্টোবর ফলপ্রকাশ।