বিনা অনুমতিতে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের বেশ কিছু এলাকা জোর করে দখল করে রাখার অভিযোগ উঠল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ নিয়ে এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ বাড়ির মালিকপক্ষ। নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মঙ্গলবার হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন বাড়ির মালিকপক্ষ তথা গোয়েঙ্কা পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, সপ্তম ও অষ্টম তলায় তৃণমূলের পার্টি অফিস ছাড়ার নোটিস দিয়েছিলেন তাঁরা। সেই নোটিসে স্থগিতাদেশ দেয় নিম্ন আদালত। নিম্ন আদালতের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের এজলাসে দায়ের হল মামলা।
জানা গিয়েছে, ২০২০ সালে বাড়িটির মালিকপক্ষের সঙ্গে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের একটি চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তিতে সই করেছিলেন বর্তমানে জেলবন্দি তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী। চুক্তিতে লেখা ছিল, বাড়ির একটি নির্দিষ্ট অংশই ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু সেই শর্ত না মেনে অতিরিক্ত জায়গা জবরদখল করে ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ। মালিককে না জানিয়ে বিশাল হোর্ডিং ও বিলবোর্ডও লাগানো হয়। এছাড়াও রয়েছে ভাড়া নিয়ে জটিলতা। যদিও সেই সময় শাসকদলের ভয়ে বাড়ির মালিক আপত্তি বা অভিযোগ জানানোর সাহস পাননি। রাজ্যে পালাবদলের পর গত ২৫ আগস্ট ৯, ক্যামাক স্ট্রিটের সপ্তম এবং অষ্টম তলায় তৃণমূলের পার্টি অফিস ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার নোটিস দেয় বাড়ির মালিক। তবে গত শনিবার সেই নোটিসে স্থগিতাদেশ দেয় কলকাতার সিটি সিভিল কোর্ট। সেই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করে এবার হাই কোর্টের দ্বারস্থ ওই বাড়ির মালিকপক্ষ।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে ক্যামাক স্ট্রিটের তৃণমূল কার্যালয়ে দলের বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই নিয়ে পুরসভা ও পুলিশকে কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হয় অভিযোগ। এই আবহে অফিসে হানা দেয় দমকল। পরে নোটিস দিয়ে দমকল জানায়, পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অভিষেকের পার্টি অফিসটি অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। ফলে ভবনের ভিতরে ও আশপাশের মানুষের জীবনে বড়সড় বিপদ ঘটতে পারে। তাই অবিলম্বে ওই অংশগুলি খালি করতে হবে। নতুন করে শংসাপত্র না-পাওয়া পর্যন্ত ওই জায়গা ব্যবহার করা যাবে না। এই পরিস্থিতিতে ক্যামাক স্ট্রিটের পার্টি অফিস নিয়ে নতুন করে চাপে কালীঘাট তৃণমূল।