বাড়িতে বকাবকি করে। কোনও স্বাধীনতা নেই। এভাবে থাকা যায়? অভিযোগ, তাই স্কুল যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে পালিয়েছিল পাঁচ কিশোরী। তবে শেষ রক্ষা হলো না। মঙ্গলবার তাদের উদ্ধার করে পরিবারের হাতে তুলে দিল শীতলখুচি থানার পুলিশ। এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে কোচবিহারে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পাঁচ নাবালিকা শীতলখুচির স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। মা-বাবার উপরে খুব রাগ ছিল তাদের। অভিযোগ, বাড়িতে সব সময়ে বকাবকি করে, নিজের মতো কিছুই করতে পারে না তারা। এই রাগ থেকেই বাড়ি থেকে পালানোর পরিকল্পনা করে তারা। একটু একটু করে ৮ হাজার টাকাও জমায়। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার স্কুলে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে পালায় পাঁচ জন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে পাঁচ কিশোরী সোজা চলে যায় কোচবিহারে শহরে। তার পরে একটি ই-রিকশা নিয়ে ভাড়া বাড়ি খুঁজতে শুরু করে। কিশোরীদের কথাবার্তা শুনে সন্দেহ হয় চালকের। তিনি তাদের নিয়ে সোজা হাজির হন কোচবিহার মহিলা থানায়।
এদিকে স্কুল ছুটির পরেও মেয়েরা বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। শেষে শীতলখুচি থানায় নিখোঁজ ডায়রি করেন ওই পাঁচ কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা। ততক্ষণে গোটা বিষয়টা শীতলখুচি থানায় জানায় কোচবিহার মহিলা থানাও। সঙ্গে সঙ্গে একদল পুলিশকর্মী কোচবিহার থেকে তাদের শীতলখুচিতে নিয়ে আসেন। তার পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
তবে কেন তারা একসঙ্গে বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, পরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কেমন ছিল এবং তাদের অভিযোগের সত্যতা কতটা—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা অবশ্য এই ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
পাঁচ নাবালিকা কেন বাড়ি ছেড়েছিল?
বাড়িতে বকাঝকা, মারধর এবং পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা না থাকার অভিযোগে তারা বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
কবে তারা বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল?
মঙ্গলবার স্কুলের পোশাক পরেই শীতলখুচির বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল পাঁচ জন।
কোথা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়?
কোচবিহার শহরে একটি টোটোয় ওঠার পর তাদের সন্দেহ হয় টোটোচালকের। তিনিই পাঁচ জনকে পুলিশের কাছে নিয়ে যান। পরে কোচবিহার মহিলা থানায় তাদের রাখা হয়।
টোটোচালকের সন্দেহ হল কেন?
পাঁচ নাবালিকা টোটোয় উঠে বাড়ি ভাড়া খোঁজার চেষ্টা করছিল। বিষয়টি দেখে টোটোচালকের সন্দেহ হয়।
বাড়ি ছাড়ার আগে কি কোনও প্রস্তুতি নিয়েছিল তারা?
হ্যাঁ। দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি ছাড়ার পরিকল্পনা করছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই কারণে প্রায় ৮ হাজার টাকা জমিয়েছিল তারা।
কী ভাবে বাড়ি ফিরল পাঁচ নাবালিকা?
কোচবিহার মহিলা থানায় উদ্ধারের পর শীতলখুচি থানার পুলিশের টিমের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা তাদের বাড়িতে নিয়ে যান।
পরিবারের পক্ষ থেকে কী বলা হয়েছে?
ঘটনা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।