• শিক্ষক দিবসের খাওয়াদাওয়া ঘিরে ধুন্ধুমার, ছাত্রদের মারে মাথা ফাটল প্রধান শিক্ষকের, রণক্ষেত্র স্কুল
    এই সময় | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • শিক্ষক দিবসে উপলক্ষে মিড ডে মিলে স্পেশাল খাওয়াদাওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক ধর্মুচাঁদ বারুই। জলপাইগুড়ি জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের আর তর সয়নি। মঙ্গলবার দুপুর থেকেই রান্নাঘরে উঁকিঝুঁকি মারছিল তারা। এতেই রেগে গিয়ে প্রধান শিক্ষক ছাত্রদের মারধর করেন বলে অভিযোগ। পাল্টা প্রধান শিক্ষককে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে। শেষে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পড়ুয়ারা।

    গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ছিল শিক্ষক দিবস। সেই দিন হাফ ছুটি হয়ে যায়। তাই আর বিশেষ কিছু খাওয়াদাওয়া হয়নি। ছাত্রদের দাবি, ওই দিনই প্রধান শিক্ষক ধর্মুচাঁদ তাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন, মঙ্গলবার মিড ডে মিলে স্পেশাল মেনু থাকবে। এদিন সকাল স্কুল আসার পর থেকেই ছাত্রদের আর যেন তর সইছিল না। মাঝে মধ্যেই রান্নাঘরে উঁকি দিচ্ছিল তারা। এতেই রেগে গিয়ে প্রধান শিক্ষক পড়ুয়াদের মারধর করেন বলে অভিযোগ।

    প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি অভিযোগ জানিয়ে এক ছাত্রের দাবি, ‘আমরা কেন ওই ঘরে ঢুকেছি, সেই কথা জিজ্ঞাসা করেই স্যর মারতে শুরু করেন। একজনকে ধরে দেওয়ালে মাথা ঠুকে দেন। আর এক জনের গলা টিপে ধরেন। তার গলায় আঙুলের দাগ পড়ে গিয়েছে।’ এর পরেই পাল্টা প্রধান শিক্ষকের উপরে চড়াও হয় ছাত্ররা। পড়ুয়াদের মারের চোটে তাঁর মাথা ফেটে যায় বলে অভিযোগ। এমনকী ভাঙচুরও চলে স্কুলে।

    তবে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পড়ুয়ারা। তাদের দাবি, ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্ররা ঘিরে ধরলে প্রধান শিক্ষক পালাতে গিয়ে পড়ে যান। তখনই তাঁর মাথা ফেটে যায় বলে দাবি তাদের। ছাত্রদের আরও অভিযোগ, মিড ডে মিলে এদিন মাংস দেওয়া হলেও সবাই পায়নি। অথচ কয়েক বাটি মাংস আলাদা করে রেখে দেওয়া হয়েছিল প্রধান শিক্ষক নিয়ে যাবেন বলে। ঘটনার পর প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিও তুলেছে ছাত্রদের একাংশ।

    প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগে সরব হয়েছেন অভিভাবকরাও। এদিন স্কুল থেকে ছেলেকে আনতে গিয়েছিলেন দীপা দাস। তিনি বলেন, ‘কথা বলতে গেলে খারাপ ব্যবহার করেন।’ পাশাপাশি আগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক শিক্ষিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছিল বলে দাবি তাঁর। এদিনের ঘটনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    ঘটনা নিয়ে মুখ খুলতে চাননি অন্য শিক্ষকরাও। শিক্ষক বাপ্পা চক্রবর্তী শুধু বলেন, ‘পুরো ঘটনাটাই স্কুলের অন্য প্রান্তে হয়েছে, আমরা কিছুই জানি না।’ তবে এই ঘটনায় স্কুলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে বলে মনে করেন জলপাইগুড়ি জিলা স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ড. ধীরাজ মোহন ঘোষ। তিনি বলেন, ‘কেন ছাত্রদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের সম্পর্কের এতটা অবনতি হল, তার কারণ খুঁজে বের করা দরকার। এমন ঘটনা মোটেই সমর্থনযোগ্য নয়।’

  • Link to this news (এই সময়)