এই সময়, শিলিগুড়ি: জিটিএ-এর দুর্নীতিতে জড়িতদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলে মঙ্গলবার উত্তরকন্যায় ফের জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কালিম্পং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তে নেমেছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। সেখানে জিটিএতে সরকারি বরাদ্দের নয়ছয়, স্কুল শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মতো অভিযোগেরও তদন্ত হচ্ছে। তবে জিটিএ বাতিল করা হচ্ছে না। যে ক'জন সদস্য এখনও রয়েছেন। তাঁদের নিয়েই জিটিএ চলবে বলে জানান শুভেন্দু।
বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পরে তৃণমূল জোটসঙ্গী ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার নেতা অনীত থাপা জিটিএ-র প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তার সঙ্গে জিটিএ-র চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যানও সরে দাঁড়ান। তার পরে জিটিএতে একপ্রকার অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। সোমবার রাজ্য সরকার জিটিএর চিফ এগজ়িকিউটিভঅফিসার পদে স্মৃতিরঞ্জন মোহান্তিকে নিয়োগ করে।
এ দিন ভার্চুয়াল বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, জিটিএর যে সমস্ত সদস্য এখনও পদত্যাগ করেননি, তাঁদের নিয়ে জিটিএ চালাবেন চিফ এগজ়িকিউটিভ অফিসার। রাজ্য সরকার জিটিএর জন্য চলতি বাজেটে যে অর্থ বরাদ্দ করেছে, সেটা দিয়েই উন্নয়ন করবেন সদস্যরা। তিনি বলেন, 'পাহাড়ের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই ব্যাপারে তদারকি করছেন। যতদিন স্থায়ী সমাধান চূড়ান্ত না-হচ্ছে, তত দিন যে সমস্ত সদস্য পদত্যাগ করেননি, তাঁদের নিয়ে চিফ এগজ়িকিউটিভঅফিসার কাজ চালিয়ে যাবেন।'
এক দিনের সফরে এ দিন উত্তরবঙ্গে আসেন শুভেন্দু। দুপুরে তাঁর কালিম্পংয়ে টাউন হলে প্রশাসনিক সভার কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে তিনি হেলিকপ্টারে কালিম্পংয়ের পথে রওনা হওয়ার পরেও ফিরে আসতে বাধ্য হন। শেষ পর্যন্ত উত্তরকন্যায় তিনি ভার্চুয়াল সভা করেন। মুখ্যমন্ত্রী এ দিন ফের দার্জিলিং, কালিম্পং এবং মিরিকে বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য ২৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ করেন।
তার সঙ্গে ২০২৩-এর বিপর্যয়ে কালিম্পংয়ে নিরাশ্রয় হয়ে পড়া ৭৩টি পরিবারকে দেড় লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের কথা জানান। তিস্তার বন্যা মোকাবিলায় রাজ্য সরকার কাজ করছে বলেও দাবি করেন। মুখ্যমন্ত্রী এ দিন জানান, রাজ্য সরকার ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলসে এক হাজার কর্মী নিয়োগ করবে। তার মধ্যে ৩৩০ জন মহিলা কর্মী নিয়োগ করা হবে। ওই নিয়োগের ক্ষেত্রে পাহাড়ের যুবকরা সুযোগ পাবেন।