সঞ্জয় দে, দুর্গাপুর
পড়ুয়াদের মোবাইল ফোনে আসক্তি নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, অধিক রাত পর্যন্ত বাচ্চা ছেলেমেয়েরা মোবাইল দেখছে। স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে রাশ টানার পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি। আদপে কি তা সম্ভব?
এই বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা নিয়েছে দুর্গাপুরের নেপালিপাড়া হিন্দি হাইস্কুল। ছাত্রছাত্রীরা যাতে মোবাইল ফোন নিয়ে স্কুলে না-আসতে পারে, তার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ কিনেছে একটি মেটাল ডিটেক্টর। রোজ সকালে স্কুলের গেটের সামনে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদেরপরীক্ষা করা হয় সেটি দিয়ে। তার পরে তাদের ক্লাসে ঢুকতে দেওয়া হয়।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক কলিমুল হক বলছেন, 'ইলেভেন-টুয়েলভের ছাত্রছাত্রীদের একাংশ স্কুলে মোবাইল নিয়ে আসত। রিল তৈরি করে তা পোস্ট করত সোশ্যাল মিডিয়ায়। তার পরেই স্কুলে মোবাইল নিয়ে আসা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।' তিনি যোগ করেন, 'তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিচার করার জন্য অভিভাবকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। বাচ্চাদের হাতে মোবাইল ফোন একটা সময়ে দেওয়া হয়েছিল অনলাইন ক্লাসের জন্য। তার এখন অপব্যবহার হচ্ছে। তা বন্ধ হওয়া দরকার।'
টিউশনের ক্ষেত্রেও মোবাইলের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা বিভিন্ন বিষয় পিডিএফ করে তা পড়ুয়াদের মোবাইলে পাঠাচ্ছেন। কোথাও আবার ছাত্রছাত্রীরা মোবাইলেই ক্লাস করে নিচ্ছেন। সবমিলিয়ে মোবাইলের এই মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে রাশ টানা যাচ্ছে না। খুদে পড়ুয়ারা মোবাইলের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। দুর্গাপুরের এক বেসরকারি স্কুলের উপদেষ্টা তরুণ ভট্টাচার্যর মন্তব্য, 'করোনা অতিমারীর সময় থেকে বাচ্চাদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দিতে বাধ্য হয়েছেন অভিভাবকরা। সেই সময়েই অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়েছিল। সেটা এখন ভয়ঙ্কর এক আসক্তিতে পরিণত হয়েছে। বাচ্চাদের খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে মোবাইল ফোন। এ বার সচেতনতা প্রয়োজন।'
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বললেন, 'বাচ্চারা মোবাইলের ব্যবহার বন্ধ করবে কী ভাবে? শিক্ষকরাই তো নানা ধরনের নির্দেশিকা দিচ্ছেন সেখানে। এ ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগ ছাড়া কিছু করা সম্ভব নয়।'