• বাবার মৃত্যুর পরে ডিভোর্স হলেও পেনশন পাবেন মেয়ে, বলল কোর্ট
    এই সময় | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়: বাবা যখন মারা যান, তখনও অফিশিয়ালি ডিভোর্স হয়নি মেয়ের। এই যুক্তিতে কি মেয়ে ফ্যামিলি পেনশন থেকে বঞ্চিত হতে পারেন? এই বিষয়ে দায়ের হওয়া একটি মামলায় সম্প্রতি ত্রিপুরা হাইকোর্ট জানিয়ে দি‍ল, শুধুমাত্র বাবার মৃত্যুর পরে মেয়ের ডিভোর্স হয়েছে, এই যুক্তিতে মেয়েকে ফ্যামিলি পেনশন থেকে বঞ্চিত করা যায় না। উজ্জ্বলা রানি পাল নামে ওই মামলাকারীর আবেদনের ভিত্তিতে ত্রিপুরা হাইকোর্টের বিচারপতি এমএস রামচন্দ্র রাও ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ পালিতের বেঞ্চ মূলত তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছে।

    প্রথম— ‘ত্রিপুরা স্টেট সিভিল সার্ভিসেস (রিভাইজ়ড পেনশন) রুলস, ২০১৭’ অনুযায়ী অবিবাহিত, বিধবা বা বিবাহবিচ্ছিন্ন মেয়ে বাবা বা মায়ের ফ্যামিলি পেনশন পাওয়ার যোগ্য। ওই নিয়মে এমন কোনও শর্ত দেওয়া নেই যে, বাবার জীবদ্দশাতেই মেয়ের ডিভোর্স সম্পন্ন হতে হবে। দ্বিতীয়— পারিবারিক পেনশন স্কিমগুলো মূলত সমাজের দুঃস্থ, অসহায় এবং আর্থিক ভাবে নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি। যদি বাবার জীবদ্দশায় বিবাহবিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে থাকে এবং তা মৃত্যুর পরে চূড়ান্ত হয়, তবে বিবাহবিচ্ছেদের তারিখ থেকে পেনশন পাওয়ার সুযোগ প্রযোজ্য হতে পারে। এবং তৃতীয়— সামান্য কিছু টাকার পারিবারিক পেনশনের জন্য ভারতের কোনও মহিলা নিজের সংসার ভাঙার জন্য মিথ্যে মামলা করবেন— এটা ভাবার কোনও কারণ নেই।

    এক্ষেত্রে মামলাকারীর বাবা ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের কর্মচারী। তিনি ২০০৪–এ অবসর নেন এবং মারা যান ২০১৮–এর ২ ডিসেম্বর। উজ্জ্বলার মা আগেই প্রয়াত হয়েছেন। আর উজ্জ্বলার মিউচুয়াল ডিভোর্স সম্পন্ন হয় ২০২১–এর অক্টোবরে। তিনি ফ্যামিলি পেনশনের জন্য আবেদন করেন ২০২২–এর ফেব্রুয়ারিতে। যে হেতু তাঁর বাবা জীবিত থাকাকালীন মেয়ের ডিভোর্স সম্পন্ন হয়নি, তাই তাঁর আর্জি খারিজ করে পুরনিগম। যদিও হাইকোর্টের নির্দেশ, পেনশনের বকেয়া অর্থ ছ’শতাংশ সুদ সমেত দিতে হবে মামলাকারীকে।

    সপ্তাহ খানেক আগে অবশ্য এই ধরনেরই একটি মামলায় আবেদনকারীর আর্জি খারিজ করে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের বেঞ্চ। সেখানে মামলাকারী গায়ত্রী মুখোপাধ্যায়ের বাবা সিএসটিসি–র অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ছিলেন। মামলাকারীর দাবি ছিল, তাঁর বিয়ে হলেও তিনি ২০০১ থেকে বাবার পেনশনের উপরেই নির্ভরশীল ছিলেন। ২০১৮–তে তাঁর বাবা মারা যান আর ২০২১–এ মেয়ে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেন। গায়ত্রীর আর্জি খারিজ করে কলকাতা হাইকোর্টের যুক্তি ছিল— বাবার মৃত্যুর তিন বছর পরে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা হয়েছে। ফলে বাবার পেনশনের উপরে তিনি নির্ভরশীল ছিলেন, এটা বলা যায় না।

    তা হলে একই ধরনের দু’টি মামলায় দুই হাইকোর্ট ভিন্ন অবস্থান নিল— এ প্রশ্ন উঠছে আইনজ্ঞ মহলের একাংশে। আগামী দিনে এই বিতর্কের অবসানে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয় কি না, সেটাও দেখার।

  • Link to this news (এই সময়)