• সুগম হচ্ছে পর্যটকদের পথ, টানেলেই বদলাচ্ছে হিমাচল
    এই সময় | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সুগত বন্দোপাধ্যায়

    পাহাড় ফুঁড়ে তৈরি সুড়ঙ্গপথই বদলে দিচ্ছে হিমাচল প্রদেশের অর্থনীতি। মানালি থেকে লাদাখ গিরিপথ এখন আর দুর্গম নয়। ফলে প্রবল তুষারপাতেও সড়কপথে পর্যটন যেমন থমকাচ্ছে না, তেমনই চিন–পাকিস্তান সীমান্তে নজরদারির কাজও সহজ হয়ে গিয়েছে সেনাবাহিনীর পক্ষে।

    পীর পঞ্জাল রেঞ্জের নীচে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় রোহতাং পাস এড়িয়ে তৈরি করা হয়েছে প্রায় ন'কিলোমিটার দীর্ঘ 'অটল টানেল'। বর্ডার রোড অর্গানাইজ়েশনের (বিআরও) তৈরি এই রাস্তা দুর্গম লাহুল-স্পিতি উপত্যকার সিসুর মতো প্রত্যন্ত গ্রামের সঙ্গেও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। বিকশিত হয়েছে এলাকার পর্যটন। এখন মানালি ও লেহর মধ্যে দূরত্ব কমাতে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৬,৫৮০ ফুট উচ্চতায় ৪.১ কিলোমিটার দীর্ঘ 'শিনকু লা' টানেল সামনে রেখে নিম্মু-পদুম-দার্চা (এমপিডি) সড়ক তৈরির কাজ চলছে জোরকদমে।

    এখানেই শেষ নয়। পাঞ্জাবের কিরাতপুর থেকে মানালি পর্যন্ত ২৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কপথ এক ধাক্কায় ৫০ কিলোমিটার কমিয়ে আনতে ২৯টি টানেল বিশিষ্ট চার লেনের বাইপাস নির্মাণে হাত দিয়েছেন জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। এর ২১টি টানেল নির্মাণ শেষ হওয়ার পথে। এই পথের সঙ্গেই জুড়ে দেওয়া হচ্ছে পাঠানকোট সীমান্তকে। এক-একটি সুড়ঙ্গের দৈর্ঘ্য ৬৫০ মিটার থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার। এই পথে ৪৪টি এলাকাকে ধসপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ সব জায়গায় রয়েছে হড়পা বানের আশঙ্কাও। তাই জাতীয় সড়ক কতৃর্পক্ষ ৮২৫ কোটি টাকা খরচ করে এই পথে শুধু টানেলই নয়, নির্মাণ করছেন ওভারব্রিজও। লক্ষ্য একটাই — প্রাকৃতিক বিপর্যয় এড়িয়ে সারা বছর যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা।

    পার্বত্য রাজ্য হিমাচলের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ আপেল চাষ আর পর্যটন। এত দিন শীতে তুষারপাতের ফলে কুলু ও মানালি থমকে যেত। গোটা ছবি পাল্টে দিচ্ছে এই সুড়ঙ্গ-নির্ভর রাস্তা। এতে উপকৃত হচ্ছে সেনাও। চিন আর পাকিস্তান সীমান্ত ঘেঁষা লাদাখে যাওয়ার প্রচলিত রুট ছিল দু'টি — একটি শ্রীনগর- লেহ এবং অন্যটি মানালি-সারচু-লেহ। ১৯৯৯-এর কার্গিল যুদ্ধের সময়ে পাকিস্তান এই শ্রীনগর- লেহ হাইওয়েই টার্গেট করেছিল। তার পর থেকেই বিকল্প রুট নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়। সেই পরিকল্পনামাফিকই বিআরও ভৌগোলিক ভাবে সীমান্ত থেকে একটু দূরে ২৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ নিম্মু-পদুম-দার্চা রুটে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই গিরিপথে থাকছে ৪.১ কিলোমিটার দীর্ঘ 'শিনকু লা টানেল'। এই সুড়ঙ্গের লক্ষ্য লাদাখ সীমান্তে দ্রুত ভারতীয় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম রসদ পাঠানো।

    বিআরও–র যোজক প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক চানক শর্মা বলেন, 'নিম্মু-পদুম-দার্চা (এনপিডি) সড়কপথ আরও বদলে দেবে এই রুট। তুষারপাত হলেও এই গিরিপথে যাতায়াত সম্ভব হবে। চিন্তামুক্ত হবেন পর্যটক থেকে সেনা জওয়ান। দেশের সুরক্ষা আর সাধারণ মানুষের রোজকার বেঁচে থাকা যে হাত ধরাধরি করে চলতে পারে, তার নজির তৈরি হচ্ছে হিমাচলে।'

  • Link to this news (এই সময়)