এই সময়: দইয়ে ফ্যাটের পরিমাণ কম বলে তাকে ভেজাল বলে ধরে নেওয়া যায় না, এ জন্য আরও নির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ চাই বলে মঙ্গলবার পর্যবেক্ষণে জানাল কলকাতা হাইকোর্ট। ২৬ বছর ধরে চলা একটি মামলায় নিম্ন আদালতের সাজা এ দিন খারিজ করে আদালত।
নদিয়ার মিষ্টি ব্যবসায়ী ভগীরথ ঘোষ নিম্ন আদালতের রায় চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যান। বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায় (দাস) তাঁর আবেদন মঞ্জুর করে ২০০০-এ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের দেওয়া ছ'মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানার রায় খারিজ করেছেন। সিজেএমের রায় ২০০৪-এ বহাল রেখেছিল জেলা জজের আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯৭-এর ১৬ মে। ভগীরথের দোকানে গিয়ে মাটির হাঁড়িতে প্রায় আট কেজি দই দেখেন খাদ্য পরিদর্শক। সেখান থেকে ৬০০ গ্রামের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ম মেনে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। পরে পাবলিক অ্যানালিস্টের রিপোর্টে বলা হয়, কম ফ্যাটের কারণে দইটি 'ভেজাল'।
যদিও নিম্ন আদালতের রায় খারিজের সময়ে হাইকোর্টের বক্তব্য, রিপোর্টে দইটি মানব স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর বা খাওয়ার অনুপযুক্ত, এমন কথা জানা যায়নি। এমনকী, তা নোংরা, পচা বা দুর্গন্ধযুক্ত ছিল বলেও প্রমাণ মেলেনি। হাইকোর্টের নজরে আসে, দইয়ের নমুনা কবে, কখন বিশ্লেষকের কাছে পাঠানো হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। যিনি নমুনা নিয়ে যান, তাঁকে মামলায় সাক্ষী করা হয়নি। এমনকী, পাবলিক অ্যানালিস্টকেও কোর্টে হাজির করানো হয়নি তাঁর রিপোর্টের সত্যতা প্রমাণ করাতে।