রেললাইনের ধারে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে একটি মোবাইল ফোন, ভোটার কার্ডের ছবি এবং একটি ওড়না। তার থেকে সামান্য দূরেই পড়ে রয়েছে এক যুবকের রক্তাক্ত নিথর দেহ। মঙ্গলবার রাতে নদিয়ার শান্তিপুর থানার নবলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রমোদ পল্লী এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছড়ায় তীব্র চাঞ্চল্য। মৃত যুবকের নাম উজ্জ্বল বিশ্বাস, তাঁর বাড়ি নদিয়ার হাঁসখালি থানা এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে সাতটা নাগাদ শান্তিপুর-শিয়ালদা ডাউন লাইন দিয়ে একটি ট্রেন যাওয়ার সময়ে হঠাৎ একটা বিকট শব্দ শুনতে পান প্রমোদ পল্লী এলাকার বাসিন্দারা। ট্রেনটি চলে যাওয়ার পরে সন্দেহ হওয়ায় কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা লাইনের ধারে গিয়ে খোঁজ শুরু করেন। সেখানে গিয়ে তারা দেখেন এক যুবক মারাত্মক জখম অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতের অদূরেই পড়েছিল ওড়না, মোবাইল ফোন ও ভোটার কার্ডের ছবি।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পৌঁছায় শান্তিপুর থানার পুলিশ এবং রানাঘাট জিআরপি (GRP)। পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। উদ্ধার হওয়া নথির ছবি থেকেই প্রাথমিক পরিচয় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
তবে এই মৃত্যুর নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর ধোঁয়াশা। এটি চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা, নাকি চলন্ত ট্রেন থেকে কেউ ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে— তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আসলে দেহের পাশে থাকা ওড়না নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। যুবক যদি ট্রেন থেকে ঝাঁপই দেন তা হলে ওড়নাটি তাঁর সঙ্গে কেন ছিল? নাকি আচমকা ধাক্কায় পড়ে যাওয়ার সময়ে বাঁচতে হাতের সামনে থাকা জিনিস টেনে ধরতেই ওড়না তাঁর হাতে চলে এসেছে? স্থানীয়দের একাংশের মনে এই সব প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে।
যুবকের এমন রহস্যমৃত্যুতে চলন্ত ট্রেন থেকে কাউকে ফেলে দেওয়া বা ধাক্কা মারার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রানাঘাট জিআরপি।