সুপ্রকাশ মণ্ডল
বিধানসভা ভোটে জিতে বিজেপি ঘোষণা করেছিল — নবান্ন নয়, রাজ্য প্রশাসন চলবে বাংলার সাবেক প্রধান সচিবালয় মহাকরণ থেকে। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার দিনই সাজ সাজ রব পড়ে গিয়েছিল মহাকরণের অলিন্দে। মুখ্যমন্ত্রী যেতে পারেন ধরে নিয়ে ব্যবস্থাও করে রাখা হয়েছিল। সে দিন তো নয়ই, তার পরে চার মাস কেটে গেলেও রাইটার্সে যাননি মুখ্যমন্ত্রী। মহাকরণের মেরামতির কাজও শেষ হয়নি। এ জন্য আরও অন্তত এক বছর লাগবে বলে খবর।
এ দিকে, বিভিন্ন দপ্তরের মূল অফিসগুলিকে এক ছাদের তলায় আনতে চাইছে সরকার। এই পরিস্থিতিতে নিউ টাউনের আশপাশে ঠিকঠাক জায়গা খুঁজছে প্রশাসন। কারণ অতখানি জমি নিউ টাউন ছাড়া কলকাতার অন্যত্র এখন পাওয়া কঠিন। তা পাওয়ার আগে অবশ্য নবান্ন থেকেই প্রশাসন চলবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, প্রধান সচিবালয় আপাতত মহাকরণে সরছে না। সূত্রের খবর, পূর্ত দপ্তরের কাছে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, মহাকরণে সচিবালয় সরানো সম্ভব কি না। দপ্তরের তরফে তাঁকে জানানো হয়েছে, মেরামতির কাজ পুরোপুরি শেষ করতে আরও বছর খানেক সময় লাগতে পারে।
২০১১–য় বামফ্রন্টকে সরিয়ে বাংলায় ক্ষমতায় আসার পরে ২৫০ বছরের প্রাচীন রাইটার্স বিল্ডিং মেরামতির সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল সরকার। ২০১৩–র অক্টোবরে প্রধান সচিবালয় স্থানান্তরিত হয় গঙ্গার অন্য পারে নবান্নে। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়-সহ বহু দপ্তর স্থানান্তরিত হয় হাওড়ার ওই ভবনে। এবং ওই মাসেই শুরু হয় মহাকরণের সংস্কার–পর্ব। সূত্রের খবর, এখন সেখানে পুর ও নগরোন্নয়ন, আইন-সহ কিছু দপ্তর থাকলেও তেমন ব্যস্ততা নেই। এ বাদে কিছু দপ্তরের কর্মী–আধিকারিক সেখানে হাজিরা দিতে যান।
গত ৪ মে ভোটের ফলপ্রকাশের পরে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মহাকরণ মেরামতির কাজ শুরু হয়। শপথের দিন শুভেন্দু যেতে পারেন আঁচ করে কিছুটা জোড়াতালি দিয়েই তাঁর অফিস রেডি করা হয়েছিল বলে খবর। আর এখন যা অবস্থা, তাতে সেখানে প্রধান সচিবালয় সরাতে আরও সময় লাগবে।
কেন এত সময় লাগছে? বিশেষজ্ঞরা জানান, ইট-সুরকির স্ট্রাকচার পরীক্ষা করতেই অনেকটা সময় লেগে গিয়েছে। প্রায় ২৫০ বছরের পুরোনো রাইটার্স বিল্ডিং যে ভিতরে ভিতরে কতখানি জীর্ণ, সেটা খালি চোখে ধরা পড়েনি। তাই খুব সাবধানে, ধীরে ধীরে দেওয়ালের পলেস্তরা খসিয়ে সংস্কারের কাজ এগোতে হচ্ছে।
ইতিমধ্যে মহাকরণের ভিতরের চেহারা অনেকটা বদলেছে। আবার, নবান্নের মতো আধুনিক সুযোগ-সুবিধেও মহাকরণে নেই। নবান্ন বাদে নিউ সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ে এখন কিছু দপ্তর রয়েছে, কিছু আছে সল্টলেকের একাধিক ভবনে। আর সম্প্রতি কয়েকটিকে সরানো হয়েছে নিউ টাউনে। ডিপার্টমেন্টগুলিকে এক জায়গায় আনার লক্ষ্যে নিউ টাউনে জমির খোঁজ চলছে। পছন্দমতো জমি মিললে মহাকরণের মুখাপেক্ষী না থেকে প্রধান সচিবালয়কে সেখানেও স্থায়ী ঠিকানা দেওয়া হতে পারে।