• গেরুয়া সম্মানযাত্রায় আজ মিছিলে মুখ্যমন্ত্রী, বন্ধ JU-র ৪ গেট
    এই সময় | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়: ‘দশ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম’–এর পরে এ বার ‘গেরুয়া সম্মানযাত্রা’। মিছিলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই মিছিল আজ, বুধবার গোলপার্কে বিকেল ৩টেয় শুরু হয়ে শেষ হবে যাদবপুর এইট–বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে। এই পরস্থিতিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি মূল গেট বিকেল ৪টে থেকে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। যদিও মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এর কোনও কারণ উল্লেখ করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে সব পক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে যে, বুধবার বিকেল ৪টে থেকে ২, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গেট বন্ধ থাকায় ১ নম্বর গেট দিয়েই ক্যাম্পাসে ঢুকতে ও বেরোতে হবে। রেজিস্ট্রারের বিজ্ঞপ্তিতে কোনও কারণ উল্লেখ না–করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, যেহেতু রাজা সুবোধচন্দ্র মল্লিক রোড বন্ধ থাকবে, তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত।

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন সপ্তাহ ধরে রাজনৈতিক টানাপড়েন চলছে। গত ১৯ অগস্ট রাতে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ ও তাণ্ডব হওয়া ইস্তক ওই রাজনৈতিক চাপান–উতোর অব্যাহত। এই অবস্থায় ক্যাম্পাসে যাতে নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না–হয়, সেটা নিশ্চিত করতেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চারটি ফটক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে ‘গেরুয়া সম্মানযাত্রা’র একদিন আগেই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন বলে সূত্রের খবর। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, এই বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে অন্য কোনও বিষয়ের কোনও সম্পর্ক নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা বলেন, ‘যেহেতু ওই দিকের রাস্তা বন্ধ থাকবে, তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার যোগ নেই।’

    রাখি পূর্ণিমার দিন, ২৮ অগস্ট যাদবপুরে ‘দশ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম’ গাওয়ার কর্মসূচি পালিত হয়। সে দিনও একই ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বার বন্ধ রাখা হয়েছিল। সে দিন অবশ্য সরকারি ছুটি ছিল। আজ, বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় খোলা।

    দেওয়াল লিখন নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তাপ থামার লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না। এ বার ক্যাম্পাসের দেওয়ালে বামপন্থী পড়ুয়াদের আঁকা বিকৃত করার অভিযোগ উঠেছে। ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও-র দাবি, তাদের আঁকা লেনিনের একটি গ্রাফিতির উপর আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। এআইডিএসও-র যাদবপুর শাখার সম্পাদক রেশমিতারা খাতুন বলেন, ‘ক্যাম্পাসের দেওয়াল সকলের। কিন্তু কারও কোনও গ্রাফিতি বা স্লোগানের বিকৃতি ঘটানো হীন মানসিকতার পরিচায়ক। তাই, কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন, দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দেওয়াল লিখন নিয়ে কিছু দিন যাবৎ বিতর্ক চলছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে দেশবিরোধী স্লোগান লেখা রয়েছে বলে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তার পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন দেওয়াল থেকে স্লোগান, গ্রাফিতি মুছে দেন। কিন্তু পাল্টা দেওয়াল লেখেন বামপন্থী ছাত্রদের একাংশ।

    মঙ্গলবারই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ‘স্টুডেন্টস গ্রিভান্স রিড্রেসাল সেল’ ভেঙে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। বহিরাগতরা ১৯ অগস্ট মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে যখন হামলা চালায়, সেই সময়কার সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক বুদ্ধদেব সাউকে দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ছাত্রছাত্রীদের একাংশ বুদ্ধদেবকে ওই সেল থেকে সরানোর দাবি তুলেছিলেন। তার দিন কয়েক পরেই এক বৈঠকে ওই কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তারই বিজ্ঞপ্তি এ দিন কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেছেন।

  • Link to this news (এই সময়)