এবার কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী, দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সাতটি বিষয়ের অনুমোদন
বর্তমান | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদদাতা, বালুরঘাট: কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বালুরঘাটে প্রশাসনিক সভায় এসে দ্রুত দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সাতটি বিষয়ের অনুমোদন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের পাঁচ দিন পর অবশেষে নতুন সাতটি বিষয়ের অনুমোদন মিলল। বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে ইংরেজি, অঙ্ক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয় চালু ছিল। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএ ও এমএসসির জন্য বাংলা, ইতিহাস, সংস্কৃত, রসায়ন, এডুকেশন, দর্শন ও ভূগোল বিষয়ের অনুমোদন দিয়েছে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তর। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা ও রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অনুমোদনের পর খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে গোটা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়। অনুমোদন মিলতেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভর্তি প্রক্রিয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে চলেছে।
দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রণব ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী এসে কথা দিয়ে গিয়েছিলেন।
আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সাতটি বিষয়ের জন্য অনুমোদন এসেছে। এখন ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই উদ্যোগের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। জেলার পড়ুয়াদের আর বাইরে যেতে হবে না। এবার নিজের জেলাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলার অব এক্সামিনেশন রিপন সাহা বলেন, এই জেলার শিক্ষা মহলের জন্য এটি খুবই ভালো খবর। আগে থেকে তিনটি বিষয়ের জন্য ৫০টি করে আসন বরাদ্দ ছিল। এবার নতুন সাতটি বিষয়েও ৫০টি করে আসন বরাদ্দ হয়েছে। আগামীকাল থেকেই ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে,নতুন সাতটি বিষয়ের জন্য আপাতত অতিথি অধ্যাপক নিয়োগ করা হবে। অতিথি অধ্যাপকরা নতুন বিষয় পড়াবেন।
পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যাটিউট গঠন হয়ে গেলে স্থায়ী অধ্যাপক নিয়োগ করা হবে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাকে পিছিয়ে পড়া জেলা হিসাবে আখ্যায়িত করেন জেলার মানুষ। বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিষয়ের পাশাপাশি আপাতত অস্থায়ী পরিকাঠামোর প্রয়োজন। বালুরঘাটের কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অস্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। সেখানেই নতুন বিষয়গুলি পড়ানো হবে বলে জানা গিয়েছে।
দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছিল। বিগত লোকসভা ও বিধানসভা দুই নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিষয় ও স্থায়ী পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি সামনে এসেছিল। এবার নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম সফরের পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন বিষয়ের অনুমোদনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে দেখছেন জেলার সাধারণ মানুষ।
বালুরঘাট বিধানসভার বিধায়ক বিদ্যুৎকুমার রায় বলেন, নির্বাচনে আমার নতুন বিষয় চালু করার প্রতিশ্রুতি ছিল। আমি ও এই জেলার সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বিষয়টির পিছনে লেগে ছিলাম। একাধিকবার উচ্চশিক্ষা দপ্তর ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দরবার করেছি। মুখ্যমন্ত্রী বালুরঘাটে প্রশাসনিক সভায় নতুন বিষয়ের প্রয়োজনীয়তার গুরুত্ব বুঝেছিলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি রেখেছেন। জেলার শিক্ষা ও সংস্কৃতির আরও অগ্রগতি করাই আমাদের লক্ষ্য।