কালিমালিপ্ত জলপাইগুড়ি জেলা স্কুল প্রধান শিক্ষককে মারধর পড়ুয়াদের
বর্তমান | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে ছাত্রদের মারে গুরুতর জখম হলেন প্রধান শিক্ষক। তাঁকে স্কুল থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পড়ুয়াদের রোষের মুখে পড়েন পুলিশকর্মীরা। কোনোমতে ছাত্রদের বুঝিয়ে শেষপর্যন্ত প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রধান শিক্ষক ধরমুচাঁদ বাড়ুইয়ের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ তুলে সরব হন পড়ুয়াদের একাংশ এবং তাদের অভিভাবকরা। যা নিয়ে জেলার শিক্ষামহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রায় দেড়শো বছর পুরনো এই স্কুলের এমন করুণ অবস্থা দেখে অনেকেই স্তম্ভিত।
জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের পরিচালন সমিতির চেয়ারপার্সন তথা জেলাশাসক অদিতি চৌধুরীর কাছে জানতে বহুবার টেলিফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। মেসেজ করলেও তিনি উত্তর দেননি।
প্রধান শিক্ষকও এই প্রসঙ্গে কোনো বক্তব্য দিতে চাননি। তবে স্কুলেরই এক শিক্ষক বাপ্পা চক্রবর্তী বলেন, শিক্ষক দিবস পরবর্তী অনুষ্ঠান ঘিরে ছাত্র এবং প্রধান শিক্ষকের মধ্যে আচমকা বচসা থেকে হঠাৎ করে এমন অপ্রীতিকর একটা ঘটনা ঘটে গেলে। দেড়শো বছরের পুরনো আমাদের স্কুল কালিমালিপ্ত হল।
শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান আগেই হয়েছিল। এদিন দশম শ্রেণির ছাত্রদের মিড ডে মিল রুমে খাবার খেতে যেতে বলা হয়েছিল। অন্যান্য ক্লাসের পড়ুয়ারা মিড ডে মিল খাওয়ায় খাবার শেষ হয়ে যায়। এতে দশম শ্রেণির ছাত্ররা গিয়ে খাবার না পেয়ে চেঁচামেচি করে। ছাত্রদের অভিযোগ, আচমকা প্রধান শিক্ষক এসে দশম শ্রেণির তিন ছাত্রকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। তাদের গলায় বুকে-পিঠে আঘাত লাগে। এরপরই আচমকা ছাত্রদের একদল প্রধান শিক্ষককে মারতে শুরু করে। তাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য দৌড়াতে শুরু করেন প্রধান শিক্ষক। সেই সময় আচমকা পড়ে গিয়ে মাথা ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে তাঁর। ঘটনার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ স্কুলে পৌঁছয়। প্রধান শিক্ষককে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে ছাত্রদের একাংশ। পুলিশ তাদের কোনোমতে বুঝিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষককে সেখান থেকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। • নিজস্ব চিত্র।