• দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিরা গ্রেপ্তার হবে: মুখ্যমন্ত্রী, জিটিএতে প্রশাসক নিয়োগ, বিপর্যয়ের জন্য বরাদ্দ ২৫৪ কোটি টাকা
    বর্তমান | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: জিটিএর দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত হবে। গ্রেপ্তারও করা হবে অভিযুক্তদের। মঙ্গলবার ভার্চুয়ালি কালিম্পং জেলা প্রশাসনের সভায় যোগ দিয়ে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে তিনি বলেন, জিটিএতে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। বিপর্যয় ব্যবস্থাপনায় বরাদ্দ করা হয়েছে ২৫৪ কোটি টাকা। সকলের সঙ্গে আলোচনা করে এই ব্যাপারে কাজ করবে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। যতদিন রাজনৈতিক স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না, ততদিন জিটিএ থাকবে। 

    এদিন পাহাড়ে খারাপ আবহাওয়ার কারণে কালিম্পংয়ে অবতরণ করতে পারেনি মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার। পরে তিনি উত্তরকন্যা থেকে ভার্চুয়ালি কালিম্পং জেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠানে শামিল হন। মিনি সচিবালয় থেকে ভার্চুয়ালি কালিম্পং জেলার প্রশাসনের সভা করেন। ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ এবং রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা। 

    সভায় মুখ্যমন্ত্রী জিটিএর কেলেঙ্কারির অভিযোগ নিয়ে ফের সরব হন। বলেন, জিটিএর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রচুর টাকার অনিয়ম রয়েছে। আম্রুত প্রকল্পের টাকা লুট হয়েছে। ১১টি বোর্ডের নামে বরাদ্দ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘোটালার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করছে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি দমন কমিশন। ইতিমধ্যে কমিশনের প্রতিনিধিরা পাহাড়ে ঘুরে গিয়েছেন। ওই দুর্নীতি নিয়ে কাউকে ছাড়া হবে না। দুর্নীতিগ্রস্তদের গ্রেপ্তার করা হবে। 

    রাজ্যে পালাবদলের পরই জিটিএর চিফ এগজিকিউটিভ পদ থেকে ইস্তফা দেন অনীত থাপা। তাঁর দেখাদেখি আরও কয়েকজন সভাসদ ইস্তফা দেন। এতে জিটিএ পরিচালনার কাজকর্ম মার খাচ্ছিল। এই অচলাবস্থা কাটানোর জন্য জিটিএতে প্রশাসক নিয়োগের দাবি তোলেন পাহাড়ের বিজেপি এবং তাদের শরিকরা। এজন্য সোমবার জিটিএতে প্রশাসক হিসাবে আইএএস স্মৃতিরঞ্জন মহন্তীকে নিয়োগ করেছে রাজ্য সরকার। এদিন প্রশাসনিক সভায় তিনিও যোগ দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যতদিন পর্যন্ত পাহাড়ের স্থায়ী সমাধান না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত জিটিএ থাকবে। আমরা দীর্ঘ মেয়াদি রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করছি। জিটিএতে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। 

    সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, বিপর্যয় ব্যবস্থাপনায় দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের জন্য ২৫৪ কোটি টাকা প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তা মঞ্জুর করা হয়েছে। আমরা পাহাড়ের সঙ্গে মিলেমিশে উন্নয়নমূলক কাজ করতে চাই। স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করবেন। ধসে কালিম্পংয়ে ভূমিহীন ৭৪টি পরিবার আগে জমি পেয়েছে। এবার তাদেরকে গৃহনির্মাণের জন্য তিন লক্ষ টাকা করে দেওয়া হল। ছ’মাসের মধ্যে কালিম্পংয়ে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় তৈরি করা হবে ৮৩২৫টি বাড়ি। কালিম্পং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রোৎসাহন যোজনায় ৩২০ কোটি টাকা পাহাড়-তরাইয়ের চা বাগানের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনে শহিদদের পরিবারের সদস্যদের চাকরি দেওয়ার পাশাপাশি ভুয়ো মামলা খারিজ করা হবে। কালিম্পং টাউন হলের ওই সভায় জেলাশাসক কুহুক ভূষণ, পুলিশ সুপার অপরাজিতা রাই, সাংসদ রাজু বিস্তা প্রমুখ ভার্চুয়ালি ছিলেন। 
  • Link to this news (বর্তমান)