• পশ্চিম মেদিনীপুরে জেলা পরিষদের স্টলের ভাড়া বাবদ লক্ষাধিক টাকা বকেয়া, পদক্ষেপের প্রস্তুতি
    বর্তমান | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: জেলা পরিষদের দোকানঘর ভাড়া নিয়ে রমরমিয়ে ব্যবসা চলছে। দোকানের ঝাঁপ খুলছে প্রতিদিন, ক্রেতার আনাগোনাও রয়েছে। শুধু দেওয়া হচ্ছে না ভাড়া। বছরের পর বছর দোকান চালিয়েও জেলা পরিষদকে ভাড়া মেটাচ্ছেন না এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। তৃণমূল জমানায় তৈরি হওয়া সেই ‘ট্রেন্ড’ এখনও অব্যাহত। এবার অবশ্য বকেয়া আদায়ে কোমর বেঁধে নামছে জেলা প্রশাসন। ব্যবসায়ীদের শিক্ষা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। 

    জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, শুধু মেদিনীপুর শহরেই জেলা পরিষদের দোকানঘর ও স্টল ভাড়া বাবদ বকেয়া প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। বিষয়টি নিয়ে এবার কড়া পদক্ষেপের পথে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই বকেয়াদারদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। জেলা পরিষদ সূত্রের খবর, টাকা না মেটালে প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা, এমনকী এফআইআরও হতে পারে। গোটা বিষয়টি জেলাশাসক নিজে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

    প্রতিবছর সাধারণ মানুষের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতি। তাদের নিজস্ব খরচও কম নয়। চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন থেকে বিদ্যুতের বিল, গাড়ি ভাড়া নেহাত কম নয়। সেই খরচের জোগান আসে ফেরিঘাট লিজ, পুকুর লিজ, হল ও গেস্ট হাউস, দোকানঘর ভাড়া থেকে। 

    অথচ সেই আয়ের অন্যতম উৎস দোকানঘরের ভাড়াই এখন গলার কাঁটা।

    জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা বলেন, দোকানে ব্যবসা চালিয়ে গেলেও, অনেকেই ভাড়া দিচ্ছে না। বারংবার এ নিয়ে বলে হলেও অনেক ব্যবসায়ী আমল দিচ্ছেন না। প্রয়োজনে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। কোনো অনৈতিক কাজ মেনে নেওয়া হবে না।

    জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর সুপার মার্কেট কমপ্লেক্সের ১৮০টি দোকান থেকে বকেয়া প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। বেলদা মার্কেট কমপ্লেক্সের ৩০টি দোকানে প্রায় ১০ লক্ষ, বালিচকে ২০টি দোকানে প্রায় ৪ লক্ষ এবং শালবনীতে ১২টি দোকান থেকে বকেয়া রয়েছে ৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা।

    অভিযোগ, শুধু ভাড়া ফেলে রাখাই নয়, কোথাও কোথাও জেলা পরিষদের দোকানঘর মোটা টাকার বিনিময়ে অন্য ব্যবসায়ীর হাতে বেআইনিভাবে তুলে দেওয়ার ঘটনাও নজরে এসেছে। এক ব্যবসায়ীর কথায়, করোনার সময় থেকেই ব্যবসায় মন্দা। সেই সময় থেকেই বকেয়া বাড়তে শুরু করেছে। মেদিনীপুরের বাসিন্দা চন্দন রায় বলেন, জেলা পরিষদের মার্কেট প্লেসগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু টাকা না পেলে জেলা পরিষদ কোথা থেকে করবে। দোকানগুলো থেকে খারাপ আয় হয় না।
  • Link to this news (বর্তমান)